ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গোপালগঞ্জসহ চার জেলায় পুলিশের নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। ভোটের আগে ও ভোটের দিন নাশকতা, সহিংসতা এবং ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির আশঙ্কায় এসব এলাকাকে বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও ফরিদপুর জেলায় অতীতের রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা এবং গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে ভিন্ন ধরনের নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালে গোপালগঞ্জে সেনাবাহিনীর ওপর হামলা এবং পরে গত বছরের জুলাইয়ে এনসিপির সমাবেশ ঘিরে হামলা, সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনাকে বিশেষভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
গোপালগঞ্জের ১৯৭টি ভোটকেন্দ্র ‘অতিগুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ফলে এসব কেন্দ্রে সহিংসতার আশঙ্কা করছেন ভোটাররা। তাই ভোটের দিন এসব কেন্দ্রে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করার দাবি জানিয়েছে তারা। তবে রিটার্নিং কর্মকর্তা বলছেন, গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হবে।
গোপালগঞ্জ জেলায় রয়েছে তিনটি সংসদীয় আসন। এর মধ্যে গোপালগঞ্জ-০১ আসনে ১৩৮টি, গোপালগঞ্জ-০২ আসনে ১৫১টি এবং গোপালগঞ্জ-০৩ আসনে ১০৮টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে।
স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ের বিগত নির্বাচনগুলোতে ভোটকেন্দ্রে বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া বড় ধরনের সহিংসতা ঘটেনি। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ও নির্বাচন প্রতিহতের ঘোষণা দেওয়ায় ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক রয়েছে। জেলার ৩৯৭টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৯৭টি কেন্দ্রকে ‘অতিগুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে ভোটাররা সহিংসতার আশঙ্কায় ভোটকেন্দ্রে যাওয়া নিয়ে শঙ্কিত। ভোটকেন্দ্রে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন তারা।
গোপালগঞ্জ জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান জানান, শতভাগ সতর্ক থেকে বিভিন্ন বাহিনীসহ সবাইকে নিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে কাজ করা হচ্ছে।
দেশের প্রেক্ষাপটে ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সুষ্ঠু নির্বাচন করাই এখন প্রশাসনের ‘অগ্নি পরীক্ষা’ বলে মনে করছেন সচেতন মহল।



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন