× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১২, ২০২৬, ১০:৪১ এএম

দারিদ্র্যের কাছে হার মানছে শিশুর জীবন, সহায়তা চায় পরিবার

সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১২, ২০২৬, ১০:৪১ এএম

চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়েছে। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়েছে। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

চার বছর বয়সী শিশু মুসলিমা জন্মের পর থেকেই মাথার অস্বাভাবিক বৃদ্ধিজনিত রোগে ভোগছে। আজ সে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে শুধু চিকিৎসার অভাবে।

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার ভাটারা ইউনিয়নের ফুলবাড়িয়া গ্রামের ভ্যানচালক মঞ্জুরুল ইসলাম ও বীণা খাতুনের মেয়ে মুসলিমা। প্রতিদিন ভ্যান চালিয়ে কোনোরকমে সংসার চালানো এই পরিবারটির পক্ষে ব্যয়বহুল চিকিৎসার কথা ভাবাই অসম্ভব।

পরিবার জানায়, মুসলিমার জন্মের পর থেকেই মাথা স্বাভাবিকের চেয়ে বড় হতে থাকে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই বৃদ্ধি ভয়াবহ রূপ নেয়। এখন মাথার ওজন এতটাই বেড়েছে যে শিশুটি বসতে, হাঁটতে কিংবা খেলতে পারে না। সারাক্ষণ যন্ত্রণায় কাতর থাকে।

মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, আমি গরিব মানুষ। ভ্যান চালিয়ে যা পাই, তা দিয়ে শুধু খাবার জোটে। মেয়েটাকে ডাক্তার দেখানোর সামর্থ্য আমার নেই। কেউ যদি একটু সাহায্য করে, আমার মেয়েটা হয়তো বাঁচবে।

সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক রবিউল ইসলাম জানান, মুসলিমার রোগটি সম্ভবত হাইড্রোসেফালাস, যা একটি জটিল জন্মগত রোগ; যেখানে মস্তিষ্কে অতিরিক্ত তরল জমে মাথা অস্বাভাবিক বড় হয়ে যায়। 

তিনি বলেন, সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু করা গেলে শিশুটিকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরানো সম্ভব। কিন্তু চিকিৎসা ব্যয়বহুল ও দীর্ঘমেয়াদি।

সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দেবাশীষ রাজবংশী বলেন, উন্নত চিকিৎসাসেবা পেলে মুসলিমার সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সরিষাবাড়ী প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া জাহাঙ্গীর বলেন, একটি নিষ্পাপ শিশু চিকিৎসার অভাবে কষ্ট পাচ্ছে, এটা আমাদের সমাজের জন্য লজ্জার। এখনই প্রশাসন ও মানবিক সংগঠনগুলোর এগিয়ে আসা দরকার।

অতিরিক্ত সমাজসেবা কর্মকর্তা মদন গোপাল পাল জানান, শিশুটির জন্য প্রতিবন্ধী ভাতার অনলাইন আবেদন সম্পন্ন করা হয়েছে। শুধু ভাতা দিয়ে এই চিকিৎসা সম্ভব নয়। সমাজের বিত্তবান মানুষদের সহযোগিতা ছাড়া পরিবারটি এই সংকট কাটাতে পারবে না।

সরিষাবাড়ী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ৬০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে। একটি শিশুর জীবন বাঁচাতে প্রয়োজন সম্মিলিত উদ্যোগ। 

সমাজের দানশীল ব্যক্তি, মানবিক সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে মুসলিমার পরিবারের একটাই আকুতি—আমাদের মেয়েটাকে বাঁচান।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!