ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা যশোরে, শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত জনজীবন

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২৭, ২০২৫, ০৭:৫৭ পিএম
ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

যশোরের শার্শা-বেনাপোল সীমান্ত এলাকায় শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে চলতি মৌসুমে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রাও রেকর্ড হয়েছে এ জেলায়।

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) যশোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শুক্রবার এ তাপমাত্রা ছিল ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পরপর দুই দিন যশোরে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বিরাজ করছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

শৈত্যপ্রবাহের সঙ্গে উত্তরের হিমেল হাওয়ায় হাড় কাঁপানো শীত অনুভূত হচ্ছে। কনকনে ঠান্ডায় শ্রমজীবী মানুষ ও প্রাণীকুলের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। দিনভর সূর্যের দেখা না মেলায় শীতের তীব্রতা আরও বেড়েছে। কনকনে শীতে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। পৌষের এই শীতে মানুষ রীতিমতো কাঁপছে। প্রচণ্ড শীতের কারণে ঠান্ডাজনিত রোগও বাড়ছে। শীতবস্ত্রের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

আবহাওয়া অফিস সূত্র জানায়, পৌষ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহেই যশোর অঞ্চলে তাপমাত্রা নেমে গেছে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে। শুরু হয়েছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। গত কয়েক দিন ধরে কুয়াশা ও ঠান্ডা বাতাসের দাপট রয়েছে। দুইয়ে মিলে হাড় কাঁপানো শীত অনুভূত হচ্ছে। শনিবার যশোরে তাপমাত্রা নেমে আসে ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা দেশের সর্বনিম্ন।

প্রচণ্ড শীতের কারণে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। মোটা জ্যাকেট ও মাফলারে ঢেকে মানুষজনকে কাঁপতে কাঁপতে চলাচল করতে দেখা যাচ্ছে। অনেকেই শীতের তীব্রতায় ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। সন্ধ্যার পর থেকে বাজার ও চায়ের দোকানগুলোতে মানুষের উপস্থিতি কমে যায়।

তবে শৈত্যপ্রবাহ থাকলেও শ্রমজীবী মানুষের ঘরে বসে থাকার সুযোগ নেই। বেনাপোল ভবারবেড় মসজিদের সামনে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৫০ জন মানুষ শ্রম বিক্রির জন্য জড়ো হন। প্রচণ্ড শীতে সেই সংখ্যা অর্ধেকে নেমে এসেছে। কাজ না পেয়ে অনেকেই ফিরে যাচ্ছেন বাড়িতে, আবার কেউ কেউ দীর্ঘ সময় কাজের আশায় অপেক্ষা করছেন।

ঘিবা এলাকার জামছের আলী বলেন, ‘শীতে একদিন কাজ পাই, তিন দিন পাই না। গত এক সপ্তাহ ধরে তেমন কাজ হচ্ছে না। ভোরবেলায় এসে বসে থেকেও কোনো লাভ হচ্ছে না।’

ছোট আঁচড়া গ্রামের নির্মাণশ্রমিক জালাল উদ্দিন বলেন, ‘শীতে বাইরে দাঁড়াতে খুব কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু উপায় নেই। কাজের খোঁজে বের হয়েছি, ঠিকমতো কাজও পাচ্ছি না।’

বাহাদুরপুর এলাকার শ্রমজীবী নজরুল ইসলাম বলেন, ‘বিল্ডিংয়ের রঙের কাজ করি। কাজের সন্ধানে এসেছি। এখনো কাজ পাইনি। শীতের মধ্যে খুব কষ্ট হচ্ছে। পেটের দায়ে বাইরে বের হয়েছি।’

বেনাপোল রেলস্টেশনের ইজিবাইকচালক হানিফ মিয়া বলেন, ‘শীতে মানুষ খুব কম বের হচ্ছে। ট্রেনেও যাত্রী কম। যাত্রী না থাকায় আয়-রোজগার কমে গেছে। কষ্টে দিন কাটছে।’

বেনাপোল স্থলবন্দরের হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সহিদ আলী জানান, ‘প্রচণ্ড শীতের কারণে অনেক শ্রমিক কাজে আসতে পারেননি। আজ বন্দর বন্ধ থাকায় তেমন সমস্যা হয়নি। তবে আগামীকাল থেকে বন্দর ও কাস্টমস চালু হলে মালামাল লোড-আনলোডে কিছুটা কষ্ট হবে, তবুও শ্রমিকরা কাজ করবেন।’

অন্যদিকে শীতের তীব্রতায় শিশুদের মধ্যে জ্বর, সর্দি, হাঁচি, কাশি, ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন ঠান্ডাজনিত রোগ বেড়েছে। বয়স্করাও শীতজনিত অসুস্থতায় ভুগছেন। নাভারন ৫০ শয্যা হাসপাতালের মেডিসিন ও শিশু ওয়ার্ডে রোগীর চাপ বেড়েছে। বহির্বিভাগেও শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছেন।

শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌফিক পারভেজ জানান, ‘শীতজনিত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে এবং তাদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, শিশুদের বিশেষ যত্ন নেওয়া জরুরি। গরম পানি পান করানো, গরম কাপড় পরানো এবং হাত-পায়ে মোজা ব্যবহার করতে হবে। শীতজনিত রোগে যে কোনো বয়সের মানুষ ঝুঁকিতে থাকেন, তাই সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’