ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

শৈত্যপ্রবাহে কাঁপছে বেনাপোল, বেড়েছে গরম কাপড়ের চাহিদা

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জানুয়ারি ৪, ২০২৬, ০১:১৯ পিএম
শীতের পোশাক কিনছেন ক্রেতারা। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

শীতের তীব্রতা বৃদ্ধির কারণে যশোরের শার্শা উপজেলার ফুটপাতের দোকানগুলোতে গরম কাপড়ের বিক্রি বেড়েছে। নিম্ন ও স্বল্প আয়ের মানুষ শীতের তীব্রতা থেকে কিছুটা রক্ষা পেতে ফুটপাতের দোকানে ভিড় করছেন।

শার্শার বেনাপোল, বাগআঁচড়া ও নাভারণ বাজারের ফুটপাতের দোকানে সোয়েটার, জ্যাকেট, হুডি, কানটুপি, মাফলার, শাল, ট্রাউজার ও ফুলহাতা গেঞ্জিসহ বিভিন্ন শীতবস্ত্র পাওয়া যাচ্ছে। সাইজ অনুযায়ী দামও ভিন্ন। একশ-দেড়শ টাকা থেকে শুরু করে ৬০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে এসব পোশাক।

জানা গেছে, পৌষ মাসের শুরু থেকেই শীতের তীব্রতা বাড়তে শুরু করেছে। প্রথমদিকে হালকা ঠান্ডা থাকলেও পরে উত্তরের হিমেল বাতাস বইতে শুরু করেছে। সঙ্গে গায়ে কাঁপন ধরানো কুয়াশা ছড়াতে শুরু করেছে।

সকাল থেকে মেঘে ঢাকা থাকায় সূর্যের তাপ ঠিকমতো অনুভূত হচ্ছে না। দুপুরে সামান্য রোদ দেখা গেলেও বিকেলে শীতের দাপট ফের ফিরে আসে। সন্ধ্যার পর তাপমাত্রা অনেক কমে যায়।

টানা কয়েক দিনের শীতে বেনাপোল স্থলবন্দর প্রায় জনজীবন বিপর্যস্ত। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষরা কষ্ট পাচ্ছেন। মাঠে থাকা ফসলের জন্যও ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। শীত সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

তীব্র কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহের কারণে ফুটপাতের দোকানে স্বল্পমূল্যের পুরাতন কাপড় কেনার জন্য মানুষ ভিড় জমাচ্ছে। তারা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী শীতবস্ত্র কিনছেন। গরম কাপড়ের অভাবে সন্তানরা যেন শীতে কষ্ট না পায়, তাই অল্প টাকা দিয়ে কাপড় কিনছেন। তবে চাহিদা থাকায় শীতবস্ত্রের দাম বাড়তি থাকছে বলে জানিয়েছেন দোকানিরা।

ফুটপাতের দোকানদারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মূল ক্রেতারা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ। এ ছাড়াও ভ্যানচালক, রিকশাচালক, দিনমজুরসহ হতদরিদ্র ও শীতার্ত মানুষ শীতবস্ত্র কিনছেন।

শীতবস্ত্র কিনতে আসা ইদ্রিস আলী বলেন, ৩ দিন ধরে সূর্য দেখা নেই। কোনো কাজ কর্ম হয়নি। সারাদিন বাসায় থাকতে হয়েছে। শীত নিবারণের জন্য কমদামে কাপড় কিনতে আসছি।

জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ঠান্ডা পড়ছে, বাচ্চার জন্য ও নিজের জন্য সোয়েটার কিনলাম। দাম বেশি হলেও বাধ্য হয়ে কিনতে হচ্ছে।

ফুটপাতের দোকানদার খলিলুর রহমান জানান, বেনাপোল ও নাভারণ বাজার বিক্রয়ের প্রাণকেন্দ্র। শীত বাড়লেই ক্রেতার ভিড় বেড়ে যায়। গত এক সপ্তাহে বিক্রি ভালো হয়েছে।

পৌষ মাস শেষে শীতের রাজা মাঘের তাণ্ডব চলছে। ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে জনজীবন প্রায় বিপর্যস্ত। দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষেরা বিপাকে পড়েছেন। সন্ধ্যার পরে সাধারণ মানুষ প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। অনেকেই খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন।

তীব্র শীতের কারণে দিনমজুররা কাজও কম পাচ্ছেন। শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিম্নবিত্ত ও ছিন্নমূল মানুষের কষ্ট সীমাহীন আকার ধারণ করেছে। সচেতন মহল বিত্তশালীদের প্রতি অসহায় ও শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে আহ্বান জানিয়েছেন।