ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ওভারটাইম ভাতা চালুর দাবি বেনাপোল স্থলবন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৩, ২০২৬, ০৬:১০ পিএম
ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

সরকার নির্ধারিত অফিস সময়ের বাইরে দীর্ঘ সময় কাজ করেও প্রাপ্য অধিকাল (ওভারটাইম) ভাতা বন্ধ থাকায় বেনাপোল স্থলবন্দরে চরম অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বন্দরের প্রধান ফটকের সামনে ভাতা পুনরায় চালুর দাবিতে বিক্ষোভ ও পথসভা করেন বেনাপোল স্থলবন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল, কার্গো ইয়ার্ড ও রাজস্ব ভবনে (ডিটিএম) দাবি সম্বলিত ব্যানার টানিয়ে তারা প্রতিবাদ জানান।

কর্মকর্তারা জানান, অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রবিধি-৩ শাখা থেকে গত ২৩ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে জারিকৃত এক প্রজ্ঞাপনের পর নভেম্বর মাস থেকেই বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের আওতাধীন কর্মচারীদের অধিকাল ভাতা বন্ধ রয়েছে। এর ফলে বন্দরের দৈনন্দিন কার্যক্রমে নিয়োজিত কর্মচারীরা আর্থিকভাবে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

নথি অনুযায়ী, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে বেনাপোল স্থলবন্দরের বিভিন্ন শাখার কর্মচারীদের প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত এবং বিশেষ প্রয়োজনে গভীর রাত পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করতে হয়। সাপ্তাহিক ছুটি, সরকারি ছুটি ও ঈদের দিনেও নিয়মিতভাবে তাদের কাজ করতে হচ্ছে।

কর্মচারীরা অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ স্থলবন্দর পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা প্রবিধানমালা-২০২৫ এবং শ্রম আইন অনুযায়ী অতিরিক্ত সময় কাজের বিপরীতে ভাতা পাওয়ার বিধান থাকলেও তা দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর করা হয়নি। এতে কর্মক্ষেত্রে বৈষম্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

এ অবস্থায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত আবেদন করা হলে বেনাপোল স্থলবন্দরের উপপরিচালক (ট্রাফিক) মো. শামীম হোসেন স্বাক্ষরিত এক পত্রে অধিকাল ভাতা অনুমোদনের সুপারিশসহ বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ স্থলবন্দর এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের এক নেতা জানান, কয়েক মাস আগে থেকেই সারা দেশের স্থলবন্দরে কর্মরত কর্মচারীদের ‘অধিকাল ভাতা’ বন্ধ রাখা হয়েছে। গত নভেম্বর মাস থেকে বেনাপোল স্থলবন্দরে কর্মরত কর্মচারীদের ‘অধিকাল ভাতা’ বন্ধ করে দেওয়া হয়, যা নিয়ে কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে।

পথসভায় বক্তারা দ্রুত অধিকাল ভাতা পুনরায় চালু এবং বকেয়া পরিশোধের দাবি জানান। দাবি মানা না হলে পর্যায়ক্রমে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারিও দেন তারা। এ কর্মসূচিতে বেনাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) শামীম হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এ ব্যাপারে গত ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মহোদয়ের নিকট পত্র দিয়ে জানানো হয়েছে। পত্রে বেনাপোল স্থলবন্দরের বিভিন্ন শাখায় কর্মরত কর্মচারীদের দ্বারা সরকার নির্ধারিত অফিস সময়ের পর অতিরিক্ত সময় কাজের জন্য ‘অধিকাল ভাতা’ পাওয়ার আবেদনটির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে প্রধান দপ্তরের বিবেচনাধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।