বেনাপোল স্থলবন্দরের কার্গো ইয়ার্ড টার্মিনালে হাই-মাস্ট লাইট পোস্টে বিদ্যুৎস্পর্শে একসাথে অসংখ্য পাখির মৃত্যুর ঘটনায় প্রকৌশলীদের অবহেলা ও ত্রুটিপূর্ণ নকশার অভিযোগ উঠেছে। বেশ কিছুদিন ধরে হাই-মাস্ট লাইটের আশেপাশে দুই-তিনটি পাখি মৃত দেখা গেলেও তা নিয়ে কেউ গুরুত্ব দেয়নি।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) সকালে ইয়ার্ড এলাকায় এই লাইট পোস্টের নিচে বিদ্যুৎ সংযোগ বাক্সের তালা খুললে এর ভিতরে প্রায় ত্রিশটি মৃত পাখি দেখা যায়। মৃত পাখিগুলো দেখে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। বন্দরের মধ্যে থাকা প্রায় প্রতিটি ল্যাম্পপোস্টেই একই অবস্থা লক্ষ করা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এই অতিথি পাখিগুলো আবাবিল পাখি হতে পারে। রাতে তীব্র আলো ও ঠান্ডার কারণে পাখিগুলো হাই-মাস্ট লাইট পোস্টের ফাঁকা অংশে আশ্রয় নেয়। কিন্তু লাইট পোস্টে খোলা ও অপর্যাপ্তভাবে রক্ষিত বিদ্যুৎ সংযোগের কারণে পাখিগুলো বিদ্যুৎ শকের শিকার হয় এবং একে একে মারা যায়।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, এই মৃত্যু কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং এটি প্রকৌশলীদের ত্রুটির ফল। নিয়ম অনুযায়ী হাই-মাস্ট লাইটে বিদ্যুৎ লাইনের সুরক্ষিত কাভার, ইনসুলেশন ও বন্যপ্রাণী-নিরাপদ নকশা থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু বাস্তবে তা মানা হয়নি বলেই এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে।
পরিবেশ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বেনাপোল কার্গো ইয়ার্ড টার্মিনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বন্যপ্রাণী সুরক্ষার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষিত। ইয়ার্ড টার্মিনালে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীদের গাফিলতির কারণে বারবার বন্যপ্রাণির প্রাণহানির ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই।
এ বিষয়ে বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন রেজার কাছে জানতে চাইলে বিষয়টি তার কাছে তেমন গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়নি। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমি কয়েকদিন আগে শুনেছি, আগামীকাল বিষয়টি নিয়ে ঢাকায় চিঠি দিয়ে দেব।’
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। তারা দায়ী প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে তদন্ত, জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং দ্রুত হাই-মাস্ট লাইটের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বন্যপ্রাণী বান্ধবভাবে সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন