ঢাকা বুধবার, ০৮ জুলাই, ২০২৬

চাঁদার দাবিতে যুবককে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে জখম

যশোর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: এপ্রিল ২০, ২০২৬, ১০:২৯ এএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

যশোরের শার্শায় শরিফুল ইসলাম (৩৮) নামে এক যুবককে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে হাতুড়ি ও বাঁশের লাঠি দিয়ে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত ওই যুবক বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

রোববার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার কায়বা ইউনিয়নের রুদ্রপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শরিফুল ইসলাম রুদ্রপুর গ্রামের ছাবেদ আলীর ছেলে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শরিফুলের আপন চাচা শুকুর আলী রুপা পাচারের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং শরিফুল তার কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন। এক পর্যায়ে শুকুর আলীর প্রায় ৯ লাখ টাকার রূপা খোয়া যায়। এ ঘটনায় শরিফুলকে দায়ী করে চাচা শুকুর আলী। পরে শরিফুল ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করেন।

পরবর্তীতে জানা যায়, একই এলাকার আতিকুর রহমান নামে এক যুবক রূপা আত্মসাৎ করেছেন, যা তিনি নিজেও স্বীকার করেন। এরপর আতিকুর ৬ লাখ টাকা দেওয়ার কথা বলে শরিফুলকে ১ লাখ টাকা নগদ ও ৫ লাখ টাকার একটি ব্যাংক চেক দেন। তবে ব্যাংকে গিয়ে দেখা যায়, ওই অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় চেকটি নগদায়ন করা সম্ভব হয়নি।

এ ঘটনায় শরিফুল ও আতিকুরের মধ্যে দীর্ঘদিন বিরোধ চলতে থাকে। পরে স্থানীয় পর্যায়ে বিষয়টি মীমাংসার মাধ্যমে শরিফুল আরও ২ লাখ টাকা আদায় করেন বলে জানা যায়।

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর শরিফুল কিছুদিন এলাকা থেকে আত্মগোপনে ছিলেন। ঘটনার দিন তিনি প্রতিদিনের মতো রাজমিস্ত্রীর কাজে যাওয়ার সময় রুদ্রপুর বাজার এলাকায় পৌঁছালে আতিকুর, রশিদ ও মুকুলসহ একদল লোক তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়।

পরে তাকে রুদ্রপুর বাজারে নিয়ে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে হাতুড়ি ও বাঁশের লাঠি দিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।

পরে স্থানীয়রা আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

আহত শরিফুলের বাবা ছাবেদ আলী বলেন, পুরনো বিরোধের জেরে আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবিতে তুলে নিয়ে পিটিয়ে জখম করা হয়েছে।

অভিযুক্ত আতিকুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া গেছে।

শার্শা থানার ওসি মারুফ হোসেন জানান, এ ঘটনায় এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।