ঢাকা মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই, ২০২৬

জুলাই নিয়ে পোস্টের জন্য ক্ষমা চাইলেন অভিনেত্রী শাওন

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ৭, ২০২৬, ১০:২৭ পিএম
অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন। ছবি : সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ২০২৪ সালে সংগঠিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে একটি বিতর্কিত ও আপত্তিজনক শব্দ ব্যবহার করে পোস্ট দিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদের দ্বিতীয় স্ত্রী ও অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন। পরবর্তীতে সমালোচনার জেরে সেই পোস্ট ডিলেট করার পর জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে মেটিকুলাসলি ডিজাইন হিসেবে মন্তব্য করে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইলেন পলাতক আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত এই অভিনেত্রী।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক ভিডিও বার্তায় শাওন বলেন, ‘আমি আসলে যে কারণে এই শব্দটি লিখেছি, সেটা হলো আমি বোঝাতে চেয়েছি—এই শব্দটা যখন আপনারা আমাদের প্রতি ব্যবহার করেন, তখন আমাদেরও খারাপ লাগে। এখন আমি যখন আপনাদের প্রতি এই শব্দটি ব্যবহার করলাম, তখন আপনাদের এত খারাপ লাগছে। তাহলে গত দুই বছর ধরে আপনারা যে এই শব্দগুলো ব্যবহার করেছেন, সেগুলো আমাদের কেমন লেগেছে? আপনারা তো একের পর এক ব্যবহার করেছেন—‘স্বজন হারানোর বেদনা ... না’। কেন? আন্দোলনের ভাষায় কি অন্য কোনো ভাষা ছিল না আপনাদের মুখে? আন্দোলনের পরও আপনারা এসব শব্দ ব্যবহার করেছেন। তখন মানুষের কেমন লাগে।’

তিনি দাবি করেন, ‘আর এই সাংকেতিক শব্দে আপনাদের এত গায়ে লাগল! আমি আসলে গায়ে লাগাতেই চেয়েছি। আমার বয়স প্রায় ৪৫ বছর। এই ৪৫ বছর বয়সে এসে আমি কোনো দিন একটি খারাপ শব্দ ব্যবহার করিনি। না আমার লেখায়, না কোনো পোস্টে। আমাকে যারা চেনেন, আমার সমসাময়িক বা আশপাশের মানুষ, তারা জানেন আমি কখনো গালাগালি করি না, কোনো খারাপ ভাষাও ব্যবহার করি না। কিন্তু এবার আমি ইচ্ছাকৃতভাবেই এটি ব্যবহার করেছি, এটা বোঝানোর জন্য যে আসলে কেমন লাগে।’

গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের নিয়ে শাওন বলেন, ‘জুলাইয়ে যে অপমৃত্যুগুলো হয়েছে, সেই অপমৃত্যুগুলোর ভিকটিমদের মধ্যে অনেকেই আছেন, যাদের বাবা-মা বা পরিবার এখনো কোনো প্রমাণ পাননি কিংবা নিশ্চিত নন যে কীভাবে তাদের সন্তান, ভাই বা স্বামী মারা গেছেন। কারণ ঢালাওভাবে বলাটা খুব সহজ যে সরকার মেরে ফেলেছে। কিন্তু আসলেই কি ঠিকমতো তদন্ত হয়েছে? তদন্তে কি বের হয়েছে যে স্নাইপারগুলো কোথা থেকে এলো? সেগুলো কার হাতে ছিল।’

পুলিশের গুলিতে শিশুর মৃত্যু নিয়ে তিনি বলেন, ‘বারান্দায় বসা একটি বাচ্চা মারা গেল। আমরা সংবাদপত্রে বারান্দার গ্রিলে গুলি ভেদ করে যাওয়ার যে ছবিটি দেখেছি, সেটি ছিল একেবারে সরলরৈখিক। এখন একটি হেলিকপ্টার থেকে গুলি করলে কি এভাবে সরলরৈখিকভাবে গুলি কারও কপালের সামনে দিয়ে ঢুকে পেছন দিয়ে বেরিয়ে যেতে পারে? এটা তো খুব সাধারণ বিজ্ঞান। উপর থেকে গুলি করলে তো গুলিটা এভাবে ঢুকবে না। তাহলে সমান উচ্চতার কোনো দালান বা ভবন থেকে গুলিটি করা হয়েছে।’

ফেসবুকে দেওয়া পোস্টের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘আমি তাদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী, যাদের সন্তান মারা গেছেন, যার ভাই মারা গেছেন বা যার পরিবারের কোনো সদস্য মারা গেছেন। কিন্তু আমার স্ট্যাটাসটা তাদের উদ্দেশে ছিল না। আমার স্ট্যাটাসটা ছিল তাদের উদ্দেশে, যারা এই জুলাইকে সাজিয়েছেন, যারা এটিকে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে (মেটিকুলাসলি) ডিজাইন করেছেন।’

কোটা আন্দোলনের পক্ষে ছিলেন দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমি নিজে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে যখন আন্দোলনটা হয়, তখন আমিও জুলাইয়ের পক্ষে ছিলাম। একদম সত্যি কথা। এখন যেহেতু আমার ফেসবুক অ্যাকাউন্টটি রেস্ট্রিক্টেড, বা বলা ভালো সাসপেন্ডেড, তাই হয়তো সেগুলো দেখা যাচ্ছে না। আমার ফেসবুক অ্যাকাউন্টটি যদি ফিরে পাই, তাহলে সবাই দেখতে পাবেন যে জুলাই মাসে যখন ‘কোটা আন্দোলন’ নামে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তখন আমি সেই কোটা আন্দোলনের পক্ষেই ছিলাম। আসলে তখন তো ‘জুলাই আন্দোলন’ নামটা ছিল না, ‘কোটা আন্দোলন’ নামই ছিল। তাই জুলাইকে কটাক্ষ করার কোনো ইচ্ছা আমার নিশ্চয়ই ছিল না। কটাক্ষ করার জন্য তো আমি কোটা আন্দোলনের পক্ষে ছিলাম না। আমি বারবার ‘কোটা আন্দোলন’ কথাটির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি।’

সবশেষ তিনি দাবি করেন, ‘কিন্তু পরবর্তীতে যখন দেখলাম, এটি আর কোটা আন্দোলন নেই, তখন খুব দ্রুতই আমি উপলব্ধি করলাম যে আমি প্রতারিত হয়েছি। যেটিকে আমি কোটা আন্দোলন বা ছাত্রদের আন্দোলন মনে করছিলাম, সেখানে নিজেকে প্রতারিত মনে হলো। বিষয়টি এমন পর্যায়ে গেল যে, এক কথায় বললে, এটি শেখ হাসিনার সরকার পতনের আন্দোলনে পরিণত হলো। আমি এটাও মেনে নিচ্ছি যে সরকার পরিবর্তনের জন্য আন্দোলন হতেই পারে। কিন্তু যেকোনো সরকার পরিবর্তনের আন্দোলনের একটি ধারা থাকে। সেই ধারার বাইরে গিয়ে যেভাবে ঢালাওভাবে গুজব ছড়ানো হলো এবং যেভাবে বিভিন্ন মৃত্যুর ঘটনায় বলা হতে লাগল যে সবই পুলিশের গুলিতে হয়েছে, সেখানে আমার আপত্তি তৈরি হয়।’