ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

পতাকা বৈঠকে সমাধান না হওয়ায় ১০ নারী-পুরুষ দ্বিতীয় দিনের মতো শূন্যরেখায়

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুন ২, ২০২৬, ০২:৪৭ পিএম

যশোরের বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে বিএসএফের ঠেলে পাঠানো ১০ জন নারী-পুরুষ ও শিশু এখনো সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছে।

সোমবার সন্ধ্যায় দুই দেশের বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সমাধান না হওয়ায় দ্বিতীয় দিনের মতো তারা মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। প্রতিটি মুহূর্ত তাদের আতঙ্কে কাটছে। ক্ষুধার্ত অবস্থায় তারা অসুস্থ হয়ে পড়ছে।

সোমবার (১ জুন) গভীর রাতে কাঁটাতারের গেট খুলে তাদের বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানো হয়। বিজিবি ঘটনাটি জানতে পেরে তা প্রতিহত করে। বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্টের উত্তরে সাদিপুর খড়ের মাঠ সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ওপারের একটি সূত্র জানায়, গত শনিবার (৩০ মে) সন্ধ্যায় কয়েকটি ট্রাকযোগে অতিরিক্ত ফোর্সসহ প্রায় ১২০ জনকে ঠেলে পাঠানোর জন্য ভারত সীমান্তের বিএসএফ ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় নিয়ে আসে। কয়েকটি গ্রুপ করে ১০-১২ জন মানুষকে ভারতের জয়ন্তীপুর সীমান্তে নিয়ে আসে বিএসএফ।

প্রথমে তারা যশোরের বেনাপোলের সাদিপুর-রঘুনাথপুর সীমান্তের বিপরীতে ভারতের জয়ন্তীপুর সীমান্ত দিয়ে ওই মানুষদের এপারে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে। বিজিবির বাধার মুখে সে চেষ্টা তাদের ব্যর্থ হয়। পরে রাতভর আশপাশের বেশ কয়েকটি কাঁটাতারের গেট খুলে তাদের ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়।

যে গেট দিয়ে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে তার আগে সেখানকার সীমান্তের সার্চলাইটগুলো বন্ধ করে দেয় বিএসএফ। বিজিবি সদস্যরা বিষয়টি বুঝতে পেরে সীমান্তজুড়ে টর্চ ও সার্চলাইট জ্বালিয়ে পুরো এলাকা আলোকিত করে রাখেন। এদিকে টহল দলের বিজিবি সদস্যরা সতর্ক থাকায় সে চেষ্টাও ব্যর্থ হয়।

বিজিবি জানায়, একাধিকবার ব্যর্থ হওয়ার পর রাত সাড়ে ৩টার দিকে সাদিপুর এলাকার সীমান্ত পিলার ১৯/এস-৬ এর কাছে আট থেকে দশজন নারী-পুরুষ ও শিশুকে কাঁটাতারের বেড়া পার করে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু বিজিবি সদস্যরা আগে থেকেই প্রস্তুত থাকায় তাদের আন্তর্জাতিক সীমারেখা অতিক্রম করতে দেওয়া হয়নি।

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই এমন ঘটনা ঘটতে পারে সন্দেহে সীমান্ত এলাকায় সতর্ক অবস্থা বজায় রাখে বিজিবি। সীমান্তজুড়ে অতিরিক্ত টহল, মাইকিং এবং নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

বিজিবি যশোর ৪৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান বলেন, ‘এটা এমন একটি বিষয়, যা ইচ্ছা করলেই দ্রুত সমাধান করা সম্ভব নয়। এখন বিএসএফ বলছে, এই লোকজন তাদের নয়। এমন দাবি তারা করতেই পারেন। তবে বিজিবি এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আমরা দীর্ঘ সময় ধরে তাদের সঙ্গে পতাকা বৈঠক করেছি, কিন্তু পতাকা বৈঠকটি কোনো সমাধান ছাড়াই তা শেষ হয়। তারা স্বীকার করতে চাচ্ছে না যে, এদের পুশইন করা হয়েছে। অথচ সেই সময়কার ভিডিও ফুটেজ প্রমাণ করছে বিএসএফ এদের ঠেলে দিয়েছে। তা ছাড়া ভুক্তভোগীরাও জানিয়েছেন, বিএসএফ তাদের সীমান্তে এনে জড়ো করেছে। তারপরও বিএসএফ বিষয়টি আমলে নিচ্ছে না।’

বর্তমানে ওই ব্যক্তিরা দুই দেশের মধ্যবর্তী জিরো লাইনে অবস্থান করছেন। তাদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করলেও এখন পর্যন্ত বিএসএফ তাদের নিজ ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নেয়নি। তবে তাদের পানি ও খাবার দিচ্ছে বিএসএফ।

বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম খান বলেন, ‘যদি ওই ব্যক্তিরা বাংলাদেশের নাগরিক হন, তাহলে প্রমাণসাপেক্ষে নিয়ম অনুযায়ী ভারতীয় কর্তৃপক্ষ যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাদের হস্তান্তর করতে পারেন। আমরা তাদের সাদরে গ্রহণ করব। কিন্তু কোনো অবস্থাতেই আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে কাউকে সীমান্ত দিয়ে ঠেলে দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না। বিজিবি শক্ত অবস্থানে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।’