ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

বাবার সামনে ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল রিকশাচালকের

যশোর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১৪, ২০২৫, ০১:১৫ পিএম
নিহত আব্দুস শহিদের পরিবারের আহাজারি। ছবি- সংগৃহীত

যশোরের সদর উপজেলার পাগলাদাহ মালোপাড়ায় শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় বাবার সামনে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে এক রিকশাচালক নিহত হয়েছেন।

নিহত আব্দুস শহিদ (৪৫) পাগলাদাহ এলাকার বশির আহমেদের ছেলে। ঘটনার পর রক্তাক্ত অবস্থায় তার বাবা শহিদকে বাঁচাতে রিকশায় করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে জরুরি বিভাগে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক শহিদকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

পুলিশ জানায়, শহিদের বিরুদ্ধে মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে। মাদকসংক্রান্ত পূর্ববিরোধের জেরে একই গ্রামের কয়েকজন যুবকের সঙ্গে তার কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তারা শহিদকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আটকের জন্য পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।

যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেঝেতে নিহত শহিদের বাবা বশির আহমেদকে ঘিরে স্বজনদের আহাজারি করতে দেখা যায়। ছেলের রক্তে ভেজা অবস্থায় তিনি নিথর দেহের দিকে তাকিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন।

নিহতের বাবা সাংবাদিকদের বলেন, শহিদ আমার বড় ছেলে। শনিবার সন্ধ্যায় রিকশা চালিয়ে বাড়ি ফেরার পথে মালোপাড়ার রহমানের দোকানের সামনে একই এলাকার কয়েকজন যুবকের সঙ্গে তার বাগবিতণ্ডা হয়। আমি ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগে একজন যুবক চাকু দিয়ে শহিদের বুকে ও পিঠে একাধিক আঘাত করে। আশপাশে লোক থাকলেও হামলাকারীদের হাতে অস্ত্র থাকায় কেউ এগিয়ে আসেনি।

তিনি আরও জানান, হামলার পর শহিদ মাটিতে লুটিয়ে পড়লে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। স্থানীয় এক রিকশাচালকের সহায়তায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বিচিত্র মল্লিক জানান, শহিদের বুকের বাম পাশে ও উপরের অংশে গভীর দুটি আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।

যশোর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক কাজী বাবুল হোসেন বলেন, শহিদের বিরুদ্ধে মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে। প্রাথমিক ধারণা, মাদকসংক্রান্ত বিরোধ ও টাকার বিষয়ে দ্বন্দ্বের কারণে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে। হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের অভিযান চলছে। পাশাপাশি পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থা তদন্ত শুরু করেছে।