উত্তরের হিমেল হাওয়া শুরুর সঙ্গে সঙ্গে গত কয়েকদিন ধরে সারা দেশের মতো সীমান্তবর্তী জেলা জয়পুরহাটেও সর্বত্র শীত জেঁকে বসেছে। টানা কয়েকদিনের প্রচণ্ড ঠান্ডায় জয়পুরহাটের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সরকারি শীতবস্ত্র সহায়তা নেই বললেই চলে। সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছে বৃদ্ধ ও শিশুরা।
বর্তমানে জয়পুরহাটে আলুর জমিতে প্রচণ্ড কষ্ট করে বৃদ্ধ মানুষদের খালি পায়ে কাজ করতে দেখা যাচ্ছে। শীতের কারণে বোরো ধানের চারা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এসব চারা নষ্ট হলে কৃষকরা বোরো চাষে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়বেন। অনেকেই খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। এত তীব্র শীত এই এলাকায় আগে কখনো দেখা যায়নি।
দিন ও রাতের তাপমাত্রা ৩ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমে যাচ্ছে। কৃষি অফিসের তথ্যমতে, এলাকায় ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার অব্যাহত শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। ঘন কুয়াশা, অসহনীয় ঠান্ডা ও শীতের প্রকোপে জয়পুরহাট কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। শীতের সঙ্গে বাতাসের পরিমাণ বাড়ায় কনকনে ঠান্ডার তীব্রতা আরও বেড়েছে।
সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকে জয়পুরহাটের প্রকৃতি। গত সাত দিন ধরে সূর্যের দেখা মেলেনি। গতকাল রাতে স্টেশন এলাকায় শীতে গরিব মানুষদের জবুথবু হয়ে শুয়ে থাকতে দেখা গেছে। জেলার বিভিন্ন গ্রামগঞ্জে লোকজন খড়কুটো জ্বালিয়ে সকাল-সন্ধ্যায় বাড়ির উঠোনে আগুন পোহাতে দেখা যাচ্ছে। শীতের তীব্রতা দিন দিন বাড়তে থাকায় কৃষিকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
গরিব ও দুঃখী মানুষরা কাজের অভাবে অনেকেই বেকার হয়ে পড়েছেন। শীত বেড়ে যাওয়ায় জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গত কয়েকদিনে সর্দি-কাশিজনিত ২-৪ জন রোগী এলেও বর্তমানে নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কাইটিস, ডায়রিয়া ও অ্যাজমাসহ বিভিন্ন শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে।
জেলা প্রশাসন থেকে যে পরিমাণ শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই নগণ্য। ভুক্তভোগীরা জানান, জেলায় আরও বেশি পরিমাণ শীতবস্ত্র পাঠানো উচিত।
ঘন কুয়াশার কারণে সকালে রাস্তায় চলাচলকারী যানবাহনগুলো হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা যাচ্ছে। শীতে বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন। শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছে। জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালের সুপার জানান, ১৫০ শয্যার এই হাসপাতালে বর্তমানে রোগীর সংখ্যা ৩শ থেকে ৪শ জনে দাঁড়িয়েছে।


