জয়পুরহাটের কালাইয়ে কয়েকদিন ধরে তীব্র তাপদাহের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে বিদ্যুৎ সংকট। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। দিনভর বিদ্যুতের আসা-যাওয়ার পাশাপাশি রাতে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
বিশেষ করে আসন্ন এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীরা পড়েছেন বিপাকে। অনেক শিক্ষার্থীকে মোমবাতির আলোয় পড়াশোনা করতে দেখা গেছে। অসহনীয় গরমে পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন অভিভাবকরা। আগামী ২১ এপ্রিল থেকে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হবে।
এসএসসি পরীক্ষার্থীদের অভিভাবক বকুল মিয়া ও নজরুল মণ্ডল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘একদিকে অসহনীয় গরম, অন্যদিকে মশার উপদ্রব ও লাগাতার লোডশেডিংয়ে শিক্ষার্থীদের রাতের ঘুমই হারাম হয়ে গেছে। নির্ঘুম রাত কাটিয়ে তারা দিনে বই নিয়ে বসলেও পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখতে পারছে না। পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এমন পরিস্থিতিতে সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা গভীর উদ্বেগে আছি।’
বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব পড়েছে কৃষি ও খামার খাতেও। ইরি-বোরো মৌসুমে সময়মতো সেচ দিতে না পারায় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকরা। গভীর নলকূপের মালিকরা জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় জমিতে পানি দেওয়া ব্যাহত হচ্ছে, এতে ফসল ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ব্যবসা-বাণিজ্যেও পড়েছে নেতিবাচক প্রভাব। কালাই পৌরশহরের কম্পিউটার ব্যবসায়ী হাবিব বলেন, ‘প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। জেনারেটরের ডিজেল কিনতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। লাভ তো হচ্ছেই না, উল্টো লোকসান গুনতে হচ্ছে। অনলাইন কাজও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।’
উপজেলার বিভিন্ন বাজারের মুদি ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে রাখা পণ্য নষ্ট হচ্ছে এবং ক্রেতা কমে যাচ্ছে।
অন্যদিকে তীব্র গরমে শিশু ও বয়স্ক রোগীরা সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন। বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্যান ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম বন্ধ থাকায় স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।
কালাই পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির তথ্যমতে, উপজেলায় প্রায় ৫২ হাজার গ্রাহকের জন্য দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা ১৬-১৭ মেগাওয়াট হলেও বর্তমানে সরবরাহ মিলছে মাত্র ৯-১০ মেগাওয়াট। ফলে ৬-৭ মেগাওয়াট ঘাটতির কারণে লোডশেডিং বেড়েছে।
এ বিষয়ে কালাই পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. যোবায়ের আলী বসু মিয়া বলেন, ‘উপজেলায় প্রায় ৫২ হাজার গ্রাহক রয়েছেন। চাহিদামতো বিদ্যুৎ সরবরাহ না পাওয়ায় লোডশেডিং হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।’



