মহান ভাষা আন্দোলনের ৭০ বছরের বেশি সময় পার হলেও কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গড়ে ওঠেনি শহীদ মিনার। ভাষাশহীদদের আত্মত্যাগের স্মৃতি ধরে রাখতে প্রতিবছর ২১ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে পালিত হয় মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। কিন্তু উপজেলার ২৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আজও নেই স্থায়ী শহীদ মিনার। ফলে ভাষা আন্দোলনের চেতনা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে লালনে ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে।
উপজেলা সূত্রে জানা গেছে, তাড়াইলে মোট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে ১০১টি। এর মধ্যে ২৬টিতে এখনো শহীদ মিনার নির্মিত হয়নি। প্রতিবছর ২১ ফেব্রুয়ারি যেসব প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার রয়েছে, সেখানে প্রভাতফেরি, পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়। কিন্তু শহীদ মিনারবিহীন প্রতিষ্ঠানগুলোতে দিবস পালনের কার্যক্রম সীমিত আকারে অনুষ্ঠিত হয়। অনেক ক্ষেত্রে অস্থায়ী প্রতীকী মিনার নির্মাণ করেই আয়োজন করতে হয়।
মাদ্রাসার শিক্ষায় সম্পূর্ণ অনুপস্থিতি
বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে উপজেলায় রয়েছে ১৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আটটি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা, একটি দাখিল ও পাঁচটি আলিম মাদ্রাসা। এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো একটিতেই স্থায়ী শহীদ মিনার নেই। স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পেরিয়ে গেলেও ভাষাশহীদদের স্মরণে সেখানে গড়ে ওঠেনি কোনো স্থায়ী স্মারক।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বরাদ্দের অভাব ও উদ্যোগের ঘাটতির কারণেই মাদ্রাসাগুলোতে এখনো শহীদ মিনার নির্মাণ সম্ভব হয়নি। তবে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস জানাতে এসব প্রতিষ্ঠানেও স্থায়ী মিনার নির্মাণ জরুরি বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদরা।
কলেজ ও মাধ্যমিকে ইতিবাচক চিত্র
উপজেলায় সরকারি কলেজ রয়েছে একটি এবং বেসরকারি কলেজ রয়েছে একটি, উভয় প্রতিষ্ঠানেই শহীদ মিনার রয়েছে। এ ছাড়া ১৫টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রতিটিতেই শহীদ মিনার নির্মিত হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রতিবছর যথাযথভাবে শহীদ দিবস পালন করা হয়।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আংশিক ঘাটতি
উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৭০টি। এর মধ্যে ৫৮টিতে শহীদ মিনার থাকলেও ১২টিতে এখনো নেই। ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ভাষাশহীদদের স্মৃতির সামনে দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এনামুল হক খান বলেন, উপজেলার ৭০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১২টিতে শহীদ মিনার নেই। এসব বিদ্যালয়ে দ্রুত শহীদ মিনার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সচেতন মহলের প্রত্যাশা
অভিভাবক ও শিক্ষানুরাগীরা মনে করেন, ভাষাশহীদদের স্মরণে ছোট পরিসরে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একটি করে শহীদ মিনার নির্মাণ করা প্রয়োজন। এতে নতুন প্রজন্ম ভাষা আন্দোলনের চেতনা ও আত্মত্যাগের ইতিহাস সম্পর্কে গভীরভাবে জানতে পারবে।
তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিত উদ্যোগে দ্রুত শহীদ মিনারবিহীন ২৬টি প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণ করা হোক। ভাষা আন্দোলনের চেতনা কেবল আনুষ্ঠানিকতার বিষয় নয়; এটি জাতির আত্মপরিচয়ের ভিত্তি। সেই চেতনাকে সমুন্নত রাখতে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একটি করে শহীদ মিনার নির্মাণ এখন সময়ের দাবি।



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন