কুড়িগ্রামে জ্বালানি সংকটের কারণে জীবন-জীবিকা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন মোটরসাইকেল ব্যবহারকারী নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। এদের মধ্যে চরম বিপাকে রয়েছেন বিভিন্ন চরাঞ্চলে মোটরসাইকেল দ্বারা যাত্রী সেবা দিয়ে জীবিকা নির্বাহকারী শত শত মোটরসাইকেল চালক। জ্বালানি সংকটের কারণে এসব মোটরসাইকেল চালকদের উপার্জন প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এই পেশার ওপর নির্ভর করেই চলে তাদের সংসার, সন্তানের পড়ালেখার খরচ, পরিবারের ভরণপোষণসহ অন্যান্য মৌলিক চাহিদা।
কিন্তু তেলের অভাবে এখন মোটরসাইকেল না চলায় থমকে গেছে জীবিকার চাকা। প্রায় বন্ধের পথে আয়-রোজগার। জীবিকা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় চরাঞ্চলের এসব মোটরসাইকেল চালক। জীবন সংগ্রামে ক্লান্ত এ পেশার মানুষগুলো অপেক্ষায় আছেন, কবে দূর হবে জ্বালানি সংকট, ঘুরবে জীবিকার চাকা, স্বাভাবিক হবে জীবন-জীবিকা।
চালকদের অভিযোগ, পেট্রোল পাম্পে দিনের পর দিন ধরনা দিয়েও মিলছে না জ্বালানি। কখনো ভোররাত থেকে বিকেল, কখনো পুরো দিন লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। ফলে বাধ্য হয়ে অনেকেই ছেড়ে দিচ্ছেন দীর্ঘদিনের এ পেশা। কেউ দিনমজুর হিসেবে কাজ করছেন, কেউ যুক্ত হচ্ছেন অস্থায়ী অন্য পেশায়, তবুও মিলছে না স্বস্তি।
জানা গেছে, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের জালালের মোড় ও শুলকুর বাজার থেকে উলিপুর উপজেলার কালিগঞ্জ পর্যন্ত দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ সড়কে প্রতিদিন শত শত মোটরসাইকেল যাত্রী পরিবহন করে। অন্য কোনো যানবাহন চলাচল করতে না পারায় এই পথেই নির্ভরশীল ছিল স্থানীয় মানুষ।
দূরত্ব অনুযায়ী যাত্রীদের কাছ থেকে ৫০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া নিয়ে প্রতিদিন একজন চালক গড়ে ৬০০ থেকে ৯০০ টাকা আয় করতেন। এর মধ্যে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা খরচ হতো জ্বালানির পেছনে। অবশিষ্ট অর্থ দিয়েই চলত তাদের সংসার।
জালালের মোড় ও শুলকুর বাজার থেকে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থান, এমনকি ঢাকা থেকে আসা যাত্রীদের দুর্গম চরাঞ্চলে পৌঁছে দিতেন চালকরা। সকাল হলেই সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে যাত্রীসেবায় নিয়োজিত থাকতেন তারা। মোল্লারহাট, কালিগঞ্জ, ওয়াপদা বাজার, নয়ারহাট চৌমুহনীসহ বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত চলাচল করত এসব মোটরসাইকেল।
মোটরসাইকেল চালক হানিফ বলেন, ‘মোটরসাইকেলটাই ছিল আমাদের একমাত্র ভরসা। এখন তেল নেই, আয় নেই। পরিবার নিয়ে কীভাবে চলব বুঝতে পারছি না। অনেকে তেল না পাওয়ার কারণে গাড়ি ঘরে তুলে রাখছে।’
আরেক চালক মাঈদুল বলেন, ‘সারা দিন পাম্পে বসে থাকি, তেল পাই না। তেল না পেলে কীভাবে গাড়ি চালাব। যার কারণে আয়-রোজগার কমে গেছে। চিন্তা করছি পেশাটি বাদ দিয়ে দিনমজুরের কাজ করব।’
কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জেলায় পেট্রোল, ডিজেল ও অকটেনের চাহিদা রয়েছে প্রায় ২ লাখ লিটার। এর বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ১ লাখ লিটার।
উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান বাবলু মিয়া বলেন, আমার ইউনিয়নটি নদী দ্বারা বিছিন্ন। এ এলাকার রাস্তাপথ দুর্গম হওয়ায় মোটরসাইকেলে করে যাতায়াত করে মানুষ। জ্বালানি সংকটের কারণে শত শত মোটরসাইকেল চালকের জীবিকা থমকে গেছে। অনেকে মোটরসাইকেলে যাত্রীবহন করতে না পেরে পরিবার নিয়ে মানবেতর দিন পার করছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন