কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপির নেতা সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘বিভ্রান্তিকর’ পোস্ট দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দলীয় ও ব্যক্তিগত মর্যাদাহানীর অভিযোগ তুলে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
জিডিটি করেন উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক আইনজীবী শফিকুল ইসলাম। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশীদ।
সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুড়িগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। ওই নির্বাচনে তিনি জামায়াত-সমর্থিত এনসিপি প্রার্থী ড. আতিকুর রহমান মোজাহিদের কাছে পরাজিত হন। পরে সরকার তাকে কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়।
জিডি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনি প্রচারণার সময় সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ জনসংযোগে বিভিন্ন এলাকায় যান এবং সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় অনেকেই তার সঙ্গে ছবি তোলেন। এরই ধারাবাহিকতায় রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়াল ডাঙা এলাকায় তোলা কিছু ছবি গত বৃহস্পতিবার ‘রাজারহাট ন্যারেটিভ’ নামে একটি ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয়।
ওই পোস্টে দাবি করা হয়, কারাবন্দি র্যাব কর্মকর্তা আলেপ উদ্দিনের জামিনে তদবির করছেন সোহেল কায়কোবাদ। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ বলেন, তার নামে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। নির্বাচনি প্রচারণায় তিনি সবার কাছে ভোট চেয়েছেন এবং অনেকেই তার সঙ্গে ছবি তুলেছেন। কে কার আত্মীয় বা কোন দলের, তা যাচাই করে ভোট চাওয়া সম্ভব নয়। সেই সময়ের ছবি ব্যবহার করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, বলেন তিনি।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় তার পক্ষ থেকে থানায় জিডি করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যথাযথ ব্যবস্থা নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন। প্রাথমিকভাবে কয়েকজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বিষয়টি নিয়ে সাইবার ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।
এদিকে, রাজারহাট থানার ওসি মামুনুর রশীদ বলেন, অভিযোগটি সাইবার ট্রাইব্যুনাল-সংশ্লিষ্ট হওয়ায় জিডি নথিভুক্ত করা হয়েছে। পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

