× UCB Sticker Card
মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুলাই ১৪, ২০২৬, ০৮:০২ পিএম

২ ফে‌রির এক‌টি ডকে, ফের সংকটে চিলমারী-রৌমারী নৌপথ

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুলাই ১৪, ২০২৬, ০৮:০২ পিএম

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

কুড়িগ্রামের চিলমারী-রৌমারী নৌপথে দুই পাড়ে মালবাহী যানবাহনের দীর্ঘ সারি থাকলেও চলাচলরত দুটি ফেরির একটি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল ৮টার দিকে চিলমারী ঘাট থেকে ফেরি ‘কুঞ্জলতা’ সার্ভে সনদ নবায়ন ও ডকিং সংস্কারের জন্য নারায়ণগঞ্জে পাঠানো হয়।

নাব্যতা সংকটের অজুহাতে টানা পাঁচ দিন ফেরি চলাচল বন্ধ থাকার পর সদ্য চালু হওয়া এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ থেকে একটি ফেরি সরিয়ে নেওয়ায় আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে এই নৌপথ।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশেই ফেরিটি প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

বর্তমানে এ নৌপথে ‘কদম’ নামে একটি ফেরি চলাচল করছে। তবে সেটি দিয়ে পুরো রুটের যানবাহনের চাপ সামাল দেওয়া কঠিন হবে বলে মনে করছেন চালক ও সহকারীরা। ইতোমধ্যে চিলমারী ও রৌমারী ঘাটের দুই পাড়ে অন্তত ৪৯টি পণ্যবাহী ও যাত্রীবাহী যানবাহন পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে।

জানা গেছে, বর্ষা মৌসুমে ব্রহ্মপুত্র নদে পর্যাপ্ত পানি থাকার পরও ‘নাব্যতা সংকটের’ কারণ দেখিয়ে গত ৭ জুলাই থেকে টানা পাঁচ দিন চিলমারী-রৌমারী নৌপথে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়। পরে ১২ জুলাই সীমিত পরিসরে ফেরি চলাচল শুরু হলেও দুই দিনের মাথায় চলাচলরত ফেরি ‘কুঞ্জলতা’ ডকিংয়ের জন্য সরিয়ে নেওয়ায় সংকট আরও গভীর হয়েছে।

চিলমারী-রৌমারী নৌপথ উত্তরাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ নৌপথ। এই পথ ব্যবহার করে কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার যানবাহন জামালপুর-ময়মনসিংহ হয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে স্বল্প দূরত্বে যাতায়াত করে। এ নৌপথ ব্যবহার করলে প্রায় ১২০ থেকে ১৩০ কিলোমিটার সড়কপথ কমে যায়। ফলে জ্বালানি, সময় ও পরিবহন ব্যয় সাশ্রয় হয়।

বুড়িমারী থেকে পাথর নিয়ে আসা ট্রাকচালক দুলাল মিয়া বলেন, আগে দুটি ফেরি চলত। একটি যেত, আরেকটি আসত। এখন শুনছি একটি ফেরি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। একটি ফেরি দিয়ে এত গাড়ি পারাপার সম্ভব নয়। এতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে। এভাবে চললে এই রুট ব্যবহার করাই কঠিন হয়ে যাবে।

বগুড়া থেকে আসা ট্রাকচালক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, এই রুটে কখন ফেরি চলে, আর কখন বন্ধ থাকে তা বোঝা যায় না। প্রায়ই নাব্যতার অজুহাতে ফেরি বন্ধ থাকে। এখন আবার একটি ফেরি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। একটি ফেরি দিয়ে এত গাড়ি পারাপার করলে সময় ও খরচ দুটোই বাড়বে। অথচ এই রুট ব্যবহার করি সময় ও জ্বালানি বাঁচানোর জন্য।

আরেক ট্রাকচালক নয়ন মিয়া বলেন, প্রতিদিন শত শত যানবাহন এই ঘাট ব্যবহার করে। এখানে অন্তত চারটি ফেরি প্রয়োজন। নিয়মিত দুটি ফেরিই চাপ সামলাতে হিমশিম খায়। সেখানে একটি সরিয়ে নেওয়া হলে পুরো নৌপথই মুখ থুবড়ে পড়বে। একটি ফেরি এনে সেটি সরিয়ে নেওয়া উচিত ছিল বলে মনে করেন তিনি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর এ নৌপথে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ বিরতির পর চলতি বছরের মে মাসের শেষ সপ্তাহে ফেরি চলাচল পুনরায় শুরু হলেও ঈদুল আজহার সময় আবার সাত দিন বন্ধ থাকে। পরে ২ জুন ফেরি চলাচল চালু হলেও ৭ জুলাই থেকে আবারও বন্ধ হয়ে যায়। সর্বশেষ ‘কুঞ্জলতা’ ফেরিটিও ডকিংয়ের জন্য প্রত্যাহার করায় এ নৌপথের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) চিলমারী ফেরি সার্ভিসের সহকারী ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) আকিব সোহেল আকাশ বলেন, প্রধান কার্যালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফেরি ‘কুঞ্জলতা’ সার্ভে সনদ নবায়ন ও ডকিংয়ের জন্য নারায়ণগঞ্জে পাঠানো হয়েছে। ডকিং শেষে ফেরিটি ফিরতে অন্তত তিন থেকে চার মাস সময় লাগতে পারে। তবে বর্তমানে চিলমারী-রৌমারী নৌপথে যানবাহনের চাপ বেশি থাকায় অতিরিক্ত একটি ফেরির চাহিদা প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হবে। সেখান থেকে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!