বিশ্বজুড়ে নানা রকম সিনেমা-সিরিজে মুরগি এসেছে গল্পের প্রয়োজনে। বাংলাদেশেও নানা নির্মাণে মুরগি হয়েছে গল্পের উপাদান। তবে ফার্মের মুরগিকে কেন্দ্র করে দুটি সিনেমা রয়েছে হলিউডে যেগুলোর সাফল্য বেশ ঈর্ষনীয়। সেগুলো হলো বিশ্বখ্যাত অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্র ‘চিকেন রান’ এবং এর সিক্যুয়াল ‘চিকেন রান: ডন অব দ্য নাগেট’।
হাস্যরস, রোমাঞ্চ আর সামাজিক বার্তার মিশেলে নির্মিত এই দুটি সিনেমা বিশ্বজুড়ে দর্শকদের মন জয় করেছে।
এটি অস্কারেও মনোনয়ন পেয়েছিলো। এই ফ্র্যাঞ্চাইজিতে দেখানো হয়েছে একটি মুরগির খামারে বন্দি জীবনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার লড়াই।
চিকেন রান (২০০০)
২০০০ সালে মুক্তি পাওয়া ‘চিকেন রান’ সর্বকালের সবচেয়ে সফল স্টপ-মোশন অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্রগুলোর একটি। সিনেমার পটভূমি যুক্তরাজ্যের একটি মুরগির খামার, যেখানে শত শত মুরগিকে ডিম উৎপাদনের জন্য বন্দি করে রাখা হয়। ছবিটি পরিচালনা করেন পিটার লর্ড ও নিক পার্ক। এর চিত্রনাট্য তৈরি করেছিলেন পিটার লর্ড, নিক পার্ক ও কারে কার্কপ্যাট্রিক।
অস্কারেও মনোনয়ন পেয়েছিলো ‘চিকেন রান’ সিনেমাটি
কিন্তু খামারের মালিক যখন বুঝতে পারেন ডিম বিক্রির চেয়ে মুরগি দিয়ে ‘চিকেন পাই’ তৈরি করলে বেশি লাভ হবে, তখন শুরু হয় ভয়াবহ বিপদ। সাহসী মুরগি জিঞ্জার এবং তার সঙ্গীরা এই পরিকল্পনার কথা জানতে পেরে পালানোর উপায় খুঁজতে থাকে। ঠিক সেই সময় খামারে এসে পড়ে উড়তে পারে বলে পরিচয় দেওয়া আমেরিকান মোরগ রকি। তাকে কেন্দ্র করেই শুরু হয় স্বাধীনতার এক রোমাঞ্চকর অভিযান।
চিকেন রান: ডন অব দ্য নাগেট (২০২৩)
এটি নির্মাণ করেছেন স্যাম ফেল ও জেফ নিউইট। চিত্রনাট্য তৈরি করেছেন কারে কার্কপ্যাট্রিক, জন ও'ফ্যারেল এবং র্যাচেল টানার্ড। ‘চিকেন রান’ মুক্তির প্রায় ২৩ বছর পর মুক্তি পায় এর সিক্যুয়েল ‘চিকেন রান: ডন অব দ্য নাগেট’। প্রথম সিনেমায় খামার থেকে পালিয়ে যাওয়া মুরগিরা এবার একটি নিরাপদ দ্বীপে শান্তিপূর্ণ জীবন কাটাতে থাকে।
তবে সুখ বেশিদিন স্থায়ী হয় না। মূল ভূখণ্ডে মুরগিদের জন্য আরও ভয়ংকর এক শিল্পকারখানার খবর জানতে পারে তারা। এবার শুধু নিজেরা পালানো নয়, বরং সেই কারখানায় অনুপ্রবেশ করে বন্দি মুরগিদের উদ্ধার করার মিশনে নামে জিঞ্জার ও তার দল। ফলে আগের সিনেমার তুলনায় সিক্যুয়ালে অ্যাকশন, অ্যাডভেঞ্চার ও প্রযুক্তিনির্ভর দৃশ্য আরও বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। এটিও দেখা যাবে নেটফ্লিক্সে।
দুটি সিনেমাই শুধু শিশুদের জন্য নয়; স্বাধীনতা, সাহস, ঐক্য এবং শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের মতো বার্তার কারণে সব বয়সী দর্শকের কাছেই সমান জনপ্রিয়। যারা অ্যানিমেশন ও কমেডি ঘরানার সিনেমা পছন্দ করেন, তাদের জন্য ‘চিকেন রান’ ফ্র্যাঞ্চাইজি নিঃসন্দেহে দেখার মতো একটি অভিজ্ঞতা।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন