উত্তরের হিমেল হাওয়া আর কনকনে ঠান্ডায় লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে জেঁকে বসেছে শীত। চারপাশ ঢেকে আছে ঘন কুয়াশায়। শীতের হিমেল বাতাসে কাঁপছে জনজীবন।
মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) বেলা ১১টা পেরিয়ে গেলেও মেলেনি সূর্যের দেখা।
সড়কে যানবাহনগুলো হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে। পথচারীরা শীতের কাপড় জড়িয়ে দ্রুত পা বাড়াচ্ছেন নিজেদের গন্তব্যে। ঘন কুয়াশার কারণে জেলার নৌঘাটগুলো থেকে সকালে নৌকা ছেড়েছে তিন ঘণ্টা দেরিতে।
কনকনে ঠান্ডায় সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া ও ছিন্নমূল মানুষ। বিশেষ করে দিনমজুরদের সকাল শুরু হচ্ছে অনিশ্চয়তায়। কুয়াশা ও ঠান্ডার কারণে অনেকে দেরি করে কাজে পৌঁছায়, ফলে কাজও মিলছে না। তাই সকাল থেকে রাস্তার মোড়ে মোড়ে অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকছেন অনেকেই।
জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, শীতের কবল থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ছিন্নমূল মানুষ খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন।
শীত উপেক্ষা করে কাজে বের হন কালীগঞ্জের কাকিনার দিনমজুর সামাদ মিয়া। তিনি বলেন, ‘পেট তো আর ঠান্ডা বোঝে না। দুই দিন ধরে খুব ঠান্ডা। হাত-পা শীতে নষ্ট হয়ে গেছে। কাজে দেরি করি, পৌঁছানোও হয়ে ওঠে না।’
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, কয়েকদিন ধরে এমন আবহাওয়া বিরাজ করছে। সূর্যের দেখা না মেলায় শীত আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে সর্দি-কাশির প্রকোপও বাড়ছে বলেও জানিয়েছেন অনেকে।
তুষভান্ডার বাজারের রিকশাচালক নুর হোসেন বলেন, ‘আমার ছোট ছেলে গতকাল থেকে সর্দিতে অসুস্থ। হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছি। এই ঠান্ডার মাঝেও গাড়ি নিয়ে বের হয়েছি, কিন্তু যাত্রি কম।’
রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র জানান, লালমনিরহাটে আজ সকাল ৬টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত কয়েকদিন থেকে উত্তরের জেলাগুলোতে শীত বেড়েছে। আজ বাতাসের আর্দ্রতা ৯৭ শতাংশ। আগামী কয়েকদিন শীত ও কুয়াশার প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে এবং মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।



