× UCB Sticker Card
সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

কালীগঞ্জ, লালমনিরহাট প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুন ২৯, ২০২৬, ১১:৪৬ এএম

উজানের ঢলে তিস্তার পানি বেড়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

কালীগঞ্জ, লালমনিরহাট প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুন ২৯, ২০২৬, ১১:৪৬ এএম

উজানের ঢলে তিস্তার পানি বেড়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলে আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে তিস্তা নদীর পানি। এতে তলিয়ে যেতে শুরু করেছে তিস্তার চরাঞ্চলের ফসলি জমি।

সোমবার (২৯ জুন) সকাল ৯টায় ডালিয়া ব্যারাজ পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ২ সেন্টিমিটার নিচে দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এতে তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলে পানি প্রবেশ করে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, রোববার সন্ধ্যা ৬টায় তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। সোমবার সকাল ৬টায় পানি বিপৎসীমার সমান অবস্থানে থাকলেও পরবর্তীতে আবারও তা বৃদ্ধি পায়। ফলে ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপর বা আশপাশে অবস্থান করছে।

এর আগে গত ২৩ জুন একবার তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার ওপরে উঠলেও দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়। তবে এবার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে।

এরই মধ্যে নদীতীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় পানি প্রবেশ করেছে। রাতের মধ্যে বেশকিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে এবং নদী তীরবর্তী অনেক বাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। ফলে অনেকে বসতবাড়ি ছেড়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। বিভিন্ন গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। অধিকাংশ এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। চরাঞ্চলে তেমন আবাদ না থাকলেও মৎস্য চাষিদের পুকুরের মাছ পানির সঙ্গে ভেসে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

এর মধ্যে ভুটান ও সিকিম পাহাড় থেকে নেমে আসা পানির চাপে তিস্তা নদী ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দো-মহনী ও মেখলিগঞ্জ পয়েন্টে বিপৎসীমা ছাড়িয়ে বাংলাদেশে ধেয়ে আসায় উভয় দেশের তিস্তায় লাল সতর্কতা জারির খবর পাওয়া গেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, রোববার সকাল ৯টায় তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১৮ সেন্টিমিটার নিচে ছিল। দুপুর ১২টায় তা ১৭ সেন্টিমিটার নিচে এবং বিকেল ৩টায় ১২ সেন্টিমিটার নিচে নেমে আসে। তবে দ্রুত পানি বৃদ্ধি পেয়ে সন্ধ্যা ৬টায় বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপরে উঠে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিস্তা ব্যারেজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে।

তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় হাতীবান্ধার গড্ডিমারী, দোয়ানী, ছয়আনী, সানিয়াজান, সিঙ্গীমারী, সিন্দুর্না ও ডাউয়াবাড়ী; কালীগঞ্জের ভোটমারী, শৈলমারী ও নোহালী; আদিতমারীর মহিষখোচা, গোবর্ধন, কালমাটি, বাহাদুরপাড়া ও পলাশী এবং সদর উপজেলার ফলিমারী, খুনিয়াগাছ, রাজপুর, তাজপুর ও গোকুন্ডা ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে এবং নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

তিস্তা পাড়ের বাসিন্দা রাশেদুল ইসলাম বলেন, কাল রাত থেকে পানি বাড়তে শুরু করেছে। এর সঙ্গে ভারী বৃষ্টিও হচ্ছে। এবার বন্যা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছি। আমরা এরই মধ্যে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র উঁচু স্থানে সরিয়ে নিয়েছি, তবে এখন পর্যন্ত সরকারি কোনো সহায়তা পাইনি।

আদিতমারীর গোবর্ধন এলাকার বাসিন্দা মনোয়ারা আক্তার বলেন, গত রাতেই আমাদের বাড়িতে পানি উঠে গেছে। বাধ্য হয়ে আমরা রাস্তার পাশে আশ্রয় নিয়েছি। টানা বৃষ্টির মধ্যে খুব কষ্টে দিন কাটছে। তিস্তা আমাদের শান্তিতে থাকতে দিচ্ছে না।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা সতর্কতার মধ্যে রয়েছি ও তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি স্লুইচ গেট খুলে রাখা হয়েছে। নদীর আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার জানান, আগামী ৭২ ঘণ্টা দেশে ও উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি বা তার ওপরে থাকতে পারে। এতে স্বল্পমেয়াদি বন্যার পাশাপাশি পানি কমে যাওয়ার পর নদীভাঙনের আশঙ্কাও রয়েছে। সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রস্তুত রয়েছে। বিশেষ করে তিস্তার ডান তীর বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!