জুড়ী উপজেলায় প্রায় আট দশক ধরে একান্নবর্তী পরিবার হিসেবে ঐতিহ্য ও মূল্যবোধ আঁকড়ে রাখা এক পরিবারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করে হৃদয়গ্রাহী বার্তা দিলেন ভারতের সহকারী হাইকমিশনার (সিলেট) অনিরুদ্ধ দাস। একই ছাদের নিচে প্রজন্মের পর প্রজন্ম পারিবারিক বন্ধন অটুট রাখার বিরল দৃষ্টান্তকে তিনি দুই দেশের মানুষের জন্য অনুপ্রেরণার আলোকবর্তিকা হিসেবে অভিহিত করেন।
পরিবারটির আদি নিবাস ভারতের পশ্চিমবঙ্গে এবং সহকারী হাই কমিশনারের নিজ বাড়িও পশ্চিমবঙ্গে হওয়ায় এই সাক্ষাত শুধু সৌজন্য নয় বরং দুই বাংলার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও আত্মিক বন্ধনের এক আবেগঘন প্রতিফলন হয়ে ওঠে।
বুধবার (৪ মার্চ) জুড়ী উপজেলার বিনন্দপুর গ্রামে প্রায় ৮০ বছর ধরে একান্নবর্তী পরিবার হিসেবে বসবাস করে আসা একটি ঐতিহ্যবাহী পরিবারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করতে আসলে সহকারী ভারতীয় হাইকমিশনাকে রীতি অনুযায়ী উলুধ্বনি ও শাঁখ বাজিয়ে স্বাগত জানানো হয়। পরে তার গলায় ফুলের মালা পরিয়ে দেওয়া হয়। বাড়ির উঠানে স্থাপিত প্যান্ডেলে বসে তিনি পরিবারটির সদস্যদের সাথে পরিচিত হন।
পরিবারের পক্ষে সোহাগী রুদ্রপাল ও শোভা রুদ্রপাল বক্তব্য দেন।
এ সময় সহকারি হাইকমিশনার সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। তিনি জানান, পূর্বপুরুষের ঐতিহ্য সংরক্ষণ করে দীর্ঘ সময় ধরে একই ছাদের নিচে পারিবারিক বন্ধন ধরে রাখার বিষয়টি তাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। আট দশক ধরে একান্নবর্তী পরিবার হিসেবে বসবাস সত্যিই অনুকরণীয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই দৃষ্টান্ত শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, ভারতের মানুষের কাছেও অনুপ্রেরণার উৎস হবে। এমন পারিবারিক ঐতিহ্য দুই দেশের মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে সহায়ক হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এই এলাকায় হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানসহ বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষের দীর্ঘদিনের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানকে তিনি একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
একান্নবর্তী পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় সহকারী হাইকমিশনার পরিবারটির সংরক্ষিত ঐতিহ্য ঘুরে দেখেন এবং তাদের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড সরেজমিন অবলোকন করেন। এ সময় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে তিনি তাদের পারিবারিক ইতিহাস, আচার-অনুষ্ঠান এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে চলে আসা মূল্যবোধ সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জানতে পারেন।
পরিদর্শন শেষে তিনি জানান, এই সফরের অভিজ্ঞতা তার কাছে আজীবন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
সাক্ষাতকালে হাইকমিশনের দ্বিতীয় সচিব রাজেশ ভাটিয়া তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ব্রিটিশ শাসনামলে ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে বহু মানুষ এ অঞ্চলের বিভিন্ন চা বাগানে কাজের উদ্দেশ্যে এসে বসতি স্থাপন করেন। পরে তাদের অনেকেই আর নিজ দেশে ফিরে যাননি। এই পরিবারের পূর্বপুরুষেরাও তৎকালীন সময়ে পশ্চিমবঙ্গে চা বাগানে কর্মরত ছিলেন।

