× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬, ০৪:৪৮ পিএম

‘৫০ লাখ কেন, সারা দুনিয়ার টাকাও ছেলের শূন্যতা পূরণ করতে পারবে না’

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬, ০৪:৪৮ পিএম

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

৫০ লাখ কেন, সারা দুনিয়ার টাকা এনে দিলেও আমার ছেলের অভাব পূরণ হবে না। আমি ছেলের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেখে যেতে চাই। তাদের এমন শাস্তি হোক, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ এমন ঘটনা ঘটানোর সাহস না পায়। আর কোনো বাবা-মায়ের কোল যেন খালি না হয়—এভাবেই কথা বললেন নিহত দীপু চন্দ্র দাসের বাবা রবি চন্দ্র দাস।

ময়মনসিংহের ভালুকায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে হত্যার পর গাছে ঝুলিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া কারখানা শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসের পরিবারকে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নিহত দীপু চন্দ্র দাসের বাবা রবি চন্দ্র দাস ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে দীপু দাসের পরিবারকে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের বিষয়টি জানানো হয়।

নিহতের বাবা রবি চন্দ্র দাস বলেন, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিল দীপু। তাকে এভাবে হত্যা করা হবে, কোনো দিন ভাবতেও পারিনি। আমার ছেলের কী দোষ ছিল? ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করলে দেশে তো আইন আছে। সেই আইনে বিচার হতে পারত। আমরা গরিব বলেই ছেলের জীবন রক্ষা করতে পারিনি।

তিনি আরও বলেন, ছেলেকে এভাবে হত্যার পর থেকে দীপুর মা ও স্ত্রী একেবারে ভেঙে পড়েছেন। তারা দুজনই খুব অসুস্থ। সারা দিন কান্নাকাটি করেন। কেউ ঠিকমতো ঘুমাতে পারেন না। নিয়মিত ঘুমের ওষুধ খাওয়ানোর পর তারা ঘুমান। আবার দুই-তিন ঘণ্টা পর জেগে ওঠেন। এভাবেই চলছে আমাদের সংসার।

দীপুর স্ত্রী অথবা মায়ের সঙ্গে কথা বলা যাবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আধা ঘণ্টা আগে তাদের দুজনকেই ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়েছে। এখন তাদের সঙ্গে কথা বলা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। ঘুম থেকে জেগে উঠলে কথা বলা যাবে।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দীপু চন্দ্র দাসের পরিবারকে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টি প্রকাশিত হয়।

সংবাদমাধ্যমকে শিক্ষা উপদেষ্টা ড. সি. আর. আবরার জানান, এ সহায়তা ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার ইউএনও’র তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি বলেন, পরিবারকে বাড়ি নির্মাণের জন্য ২৫ লাখ টাকা এবং তার বাবা ও স্ত্রীকে ১০ লাখ টাকা করে সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ ছাড়া, তার সন্তানের জন্য ৫ লাখ টাকার একটি এফডিআর করা হবে।

তিনি আরও বলেন, দীপু চন্দ্র দাসের হত্যাকাণ্ড একটি নৃশংস অপরাধ, যার কোনো অজুহাত নেই এবং আমাদের সমাজে এর কোনো স্থান নেই। তার পরিবারকে সহায়তার যে উদ্যোগ সরকার নিয়েছে, তা একটি জীবনের তুলনায় কিছুই নয়। রাষ্ট্র অবশ্যই সুবিচার নিশ্চিত করবে।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রদায়িক উন্মাদনা ছড়িয়ে যেভাবে দীপু দাসকে হত্যা করা হয়েছে, তা পুরো জাতির জন্য লজ্জার। ন্যায়বিচারই কেবল এই লজ্জা থেকে আমাদের মুক্তি দিতে পারে।

শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, আমরা একটি রাষ্ট্র ও সমাজ হিসেবে সব ধর্ম, জাতিগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের মানুষের মতপ্রকাশের শান্তিপূর্ণ অধিকারকে সম্মান করি—যতক্ষণ তা অন্যের প্রতি সম্মান বজায় রেখে করা হয়। মতভেদ বা আপত্তির মুহূর্তেও কোনো ব্যক্তি আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার রাখে না।

তিনি বলেন, এই ঘটনায় যারা দায়ী, তাদের সবাইকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচারের আওতায় আনা হবে।

তারাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, গতকাল (মঙ্গলবার) শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে আমাকে ফোন করে দীপু চন্দ্র দাসের পরিবারের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর, জাতীয় পরিচয়সহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেওয়া হয়েছে। তবে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে আমাকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। জানানো হলে অবশ্যই আপনাকে জানাব।

ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, দীপু দাস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরও সন্দেহভাজন আসামি রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে দীপু চন্দ্র দাসকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করে উত্তেজিত জনতা। পরে তার মরদেহ বিবস্ত্র করে গাছে ঝুলিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই অপু দাস ১৯ ডিসেম্বর বাদী হয়ে অজ্ঞাত ১৫০ জনকে আসামি করে ভালুকা থানায় মামলা দায়ের করেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখন পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডে জড়িত ২২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

নিহত দীপু চন্দ্র দাস ময়মনসিংহ জেলার তারাকান্দা উপজেলার মোকামিয়া কান্দা গ্রামের রবি চন্দ্র দাসের ছেলে। তিনি দুই বছর ধরে ভালুকার জামিরদিয়া পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস বিডি লিমিটেড কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!