ময়মনসিংহে রেলওয়ের জায়গা দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে হাঁস-মুরগি ও গরু-ছাগলের খামার। এ নিয়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। স্থানীয়রা বলছেন, উদ্দেশ্য খামার নয়, জায়গা দখল করা। তবে নির্বিকার রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উচ্ছেদের জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশনের পুলিশ ও জিআরপি পুলিশ কার্যালয়ের বিপরীত পাশে ৩০ শতক জায়গা দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে এই খামার। গত তিন মাস ধরে রেলওয়ের জায়গায় গড়ে তোলা খামারটিতে গরু, ছাগল, ভেড়া, হাঁস ও মুরগি পালন করছেন শহীদ উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি। তার দাবি, লিজের আবেদন করেই চারদিকে বেড়া দিয়ে খামারটি গড়ে তুলেছেন। পাশাপাশি বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি করেছেন।
জায়গা দখলকারী শহীদ উদ্দিন বলেন, পারিবারিক খামার গড়ার লক্ষ্যে জায়গাটি বেছে নিয়েছি। জমিটি লিজ নেওয়ার জন্য আবেদনও করেছি। তবে তারা এখনো লিজের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি।
রেলের জায়গায় কেন খামার তৈরি করা হয়েছে—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, বিশেষ ও সুস্বাদু মাংস সরবরাহের দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা থেকেই খামারটি করা হয়েছে। এখানে খারাপ কিছু হচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। বেকারদেরও কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়েছি।
খামারে ২০টি ছাগল, ২২টি ভেড়া, ৩৮টি হাঁস, ১৫টি মুরগি এবং ২টি গরু রয়েছে। ছাগলের পাশাপাশি মানুষের থাকার জন্যও ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। হাঁস পালনের জন্য মাটি সরিয়ে একটি অংশে পুকুরও করা হয়েছে। চারদিকে প্লাস্টিকের বেড়া দেওয়ায় মানুষের চলাচলে কিছুটা বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।
সেখানকার স্থানীয় বাসিন্দা নূর উদ্দিন বলেন, স্টেশনসংলগ্ন জায়গা দখল করে খামার গড়ে তোলায় বিষয়টি অত্যন্ত দৃষ্টিকটু দেখাচ্ছে। একজন মানুষ কীভাবে এত সাহস নিয়ে সরকারি জায়গায় খামার করছে? এখানে স্টেশন মাস্টার, রেলওয়ে থানার ওসি ও জিআরপি পুলিশ রয়েছে। এটি যদি দ্রুত বন্ধ না করা হয়, তাহলে রেলের জায়গা দখলে মানুষ আরও উৎসাহিত হবে।
শ্রমিক মানিক মিয়া বলেন, রেলের জায়গায় খামার হলেও আমাদের কর্মসংস্থান হয়েছে। এখানে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতে পারছি। পরিবারকেও কিছুটা সহযোগিতা করা যাচ্ছে।
আমিনুল ইসলাম নামে আরেকজন বলেন, কয়েক মাস ধরেই দেখছি জায়গাটি দখলের পাঁয়তারা হচ্ছে। এখন পুরোপুরি দখল হয়ে গেছে। প্রশ্ন হচ্ছে, যে ব্যক্তি এখানে খামার করেছে, সে কীভাবে এটি করল? আমাদের মতে, এখানে কারো লিজ নেওয়ার সুযোগ নেই।
ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশন সুপারিনটেনডেন্ট আব্দুল্লাহ আল হারুন বলেন, চোখের সামনে রেলের জায়গায় খামার তৈরি হয়েছে তা দেখছি, কিন্তু কিছু করতে পারছি না। নিয়ম অনুযায়ী ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তার কাছে লিখিতভাবে জানিয়েছি। শুনেছি তারা দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন।
ঢাকা বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা শিমুল কুমার সাহা বলেন, দখলকারী শহীদ উদ্দিনকে ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য নোটিশ করা হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত দিন গত মঙ্গলবার তিনি হাজির হননি। পরে কানুনগো গিয়ে আবারও জায়গাটির বিষয়ে তথ্য দিয়েছে। খুব দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে খামারটি উচ্ছেদ করা হবে।


