ঢাকা শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬

অসহায় আজীমুদ্দীন একটি ঘর চায়, বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা

ফুলপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ২০, ২০২৬, ০৩:০৬ পিএম
ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

একটি ঘর চান অসহায় আজীমুদ্দীন। তার মাথার ওপর নেই কোন নিরাপদ ছাদ। মানুষের জীবনের অন্যতম মৌলিক প্রয়োজন হলো একটি ঘর। অথচ ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের কাইচাপুর পশ্চিম পাড়া গ্রামের দিনমজুর আজীমুদ্দীনের জীবনে সেই ন্যূনতম নিরাপত্তাটুকু নেই। স্ত্রী শাহিদা বেগম, তিন মেয়ে ও চার ছেলেসহ নয় সদস্যের পরিবার নিয়ে তিনি মানবেতর জীবনযাপন করছেন একটি জরাজীর্ণ ঝুপড়ি ঘরে।

ভিটে নেই, মাটি নেই, নেই নিজের মাথা গোঁজার কোনো ঠাঁই। অন্যের জমিতে বাঁশের বেড়া, পলিথিন, পুরোনো কম্বল আর কয়েকটি টিনের টুকরো দিয়ে কোনোমতে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ঝুপড়িই তাদের একমাত্র আশ্রয়স্থল। দিনের বেলাতেও ঘরটির ভেতর থাকে অন্ধকার। বিদ্যুতের সংযোগ নেই, নেই নিরাপদ পরিবেশ।

ঘরের চালজুড়ে অসংখ্য ছিদ্র। বৃষ্টি হলেই পানি গড়িয়ে পড়ে ঘরের ভেতরে। চারপাশের বেড়া ফাঁকফোকরে ভরা। শীতের হিমেল বাতাস কিংবা ঝড়-বৃষ্টির সময় পরিবারটিকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। স্যাঁতস্যাঁতে মেঝের ওপর দুটি ভাঙা খাটই তাদের ঘুমানোর একমাত্র ব্যবস্থা। নয় সদস্যের পরিবারের প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র তো দূরের কথা, ন্যূনতম জীবনযাপনের উপকরণও নেই বললেই চলে।

রান্নাঘরের অবস্থা আরও করুণ। সামান্য বৃষ্টিতেই উঠান ও ঘরে পানি জমে যায়। পরিবারটির জন্য নেই কোনো নিরাপদ টিউবওয়েল কিংবা স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থা। প্রতিদিনই তারা নানা কষ্ট ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

আজীমুদ্দীনের পেশা মূলত নারিকেল গাছ পরিস্কার করা। দিনভর কঠোর পরিশ্রম করে যা আয় করেন, তা দিয়েই কোনোমতে চলে সংসার। সন্তানদের কেউ এখনও উপার্জনের বয়সে পৌঁছায়নি। দু-একজন স্কুলে পড়ালেখা করলেও বাকিরা ছোট। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি আজীমুদ্দীন অসুস্থ হয়ে পড়লে বা কাজ না পেলে পুরো পরিবারকে না খেয়ে থাকার পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়।

যে জায়গায় তিনি বসবাস করেন, সেটিও ঝুঁকিপূর্ণ। একটি পুকুরের নিচু পাড়সংলগ্ন স্থানে অবস্থিত তার ঝুপড়ি। সেখানে যাতায়াতের পথেও রয়েছে ভাঙন। চলাচলের জন্য ভাঙা অংশে ফেলা হয়েছে কলাগাছ, যা অত্যন্ত পিচ্ছিল ও বিপজ্জনক। শিশু, বৃদ্ধ কিংবা নারীদের জন্য পথটি যেন প্রতিদিনের এক ভয়াবহ চ্যালেঞ্জ।

জমির মালিক কৃষক সিদ্দিক জানিয়েছেন, “যদি কোনো দানশীল ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আজীমুদ্দীনের জন্য একটি ঘর নির্মাণ করে দেন, তাহলে জায়গা নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না। আমরা তার থাকার জন্য জায়গা দিতে প্রস্তুত আছি।”

স্থানীয় এরশাদ আলী, মৌলভী শরীফুল ইসলাম এবং চরনিয়ামত আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এসকান্দর হোসেনসহ এলাকার সচেতন মানুষ অসহায় এই পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর জন্য উপজেলা প্রশাসন, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, প্রবাসী ও মানবিক সংগঠনগুলোর প্রতি আন্তরিক আহ্বান জানিয়েছেন।

একটি ঘর হয়তো অনেকের কাছে সাধারণ বিষয়। কিন্তু আজীমুদ্দীনের পরিবারের কাছে সেটিই হতে পারে নিরাপত্তা, স্বস্তি ও নতুন জীবনের স্বপ্ন। সমাজের একজন দানশীল মানুষের সামান্য সহযোগিতাই পারে নয় সদস্যের একটি পরিবারকে অমানবিক জীবন থেকে মুক্তি দিতে।

আসুন, আমরা সবাই মিলে অসহায় আজীমুদ্দীনের পরিবারের জন্য একটা ঘর নির্মাণে এগিয়ে আসি।