ছোট ভাই হযরত মিয়ার সঙ্গে পাওনা টাকার দ্বন্দ্বের জের ধরে বড় ভাই সাদির মিয়াকে (৪০) কুপিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শান্ত পণ্ডিত ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাতে গৌরীপুর পৌর শহরের মধ্যবাজার পূজা মন্দির এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহত সাদির মিয়া উপজেলার কোনাপাড়া গ্রামের আব্দুল হকের ছেলে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, হামলার পরপরই রক্তাক্ত অবস্থায় সাদির মিয়াকে উদ্ধার করে গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহত সাদিরের আরেক বড় ভাই আব্দুর কাদির অভিযোগ করে জানান, হযরত মিয়া পৌর শহরের একজন কাঁচামাল ব্যবসায়ী। প্রায় চার বছর আগে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা শান্ত পণ্ডিত ব্যবসায়ী হযরতের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা ধার নেন। এর মধ্যে ১৫ হাজার টাকা পরিশোধ করলেও বাকি টাকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে টালবাহানা করছিলেন শান্ত। গত ১৫ জুলাই শান্তর কাছে পাওনা টাকা ফেরত চাইলে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়।
এরই জেরে শুক্রবার রাতে শান্ত পণ্ডিত তার দলবল নিয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হযরতের দোকানে চড়াও হন। ওই সময় দোকানে হযরতকে না পেয়ে সেখানে থাকা তার বড় ভাই সাদির মিয়াকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করেন তারা। কাদির এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
এদিকে ব্যবসায়ী সাদিরের ওপর হামলার ঘটনার প্রতিবাদে এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে রাতেই স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী পৌর শহরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শান্ত পণ্ডিত বলেন, হযরত মিয়া আমার কাছে টাকা পান- এ তথ্যটি সত্য। তবে তার ভাইয়ের ওপর হামলার ঘটনার সঙ্গে আমি কোনোভাবেই জড়িত নই।
গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাবিবুর রহমান জানান, টাকা লেনদেনের দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

