× UCB Sticker Card
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জানুয়ারি ৮, ২০২৬, ০২:৪৬ পিএম

বাণিজ্য মেলায় ক্রেতাদের মন জয় করছে ‘কারা পণ্য প্যাভিলিয়ন’

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জানুয়ারি ৮, ২০২৬, ০২:৪৬ পিএম

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় কারা পণ্য প্যাভিলিয়ন। ছবি-  রূপালী বাংলাদেশ

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় কারা পণ্য প্যাভিলিয়ন। ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় আধুনিক ও বিদেশি পণ্যের ভিড়ের মধ্যেও আলাদা করে দৃষ্টি কাড়ছে কারা পণ্য প্যাভিলিয়ন। কারাগারের সশ্রম কারাবন্দিদের হাতে তৈরি নান্দনিক ও টেকসই পণ্য নিয়ে সাজানো এই প্যাভিলিয়ন দর্শনার্থীদের কাছে ভিন্নমাত্রার আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।

৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় কারা অধিদপ্তরের এই প্যাভিলিয়নে দেশের বিভিন্ন কারাগারে তৈরি তিন শতাধিক পণ্য প্রদর্শিত হচ্ছে। বাঁশ, বেত, কাঠ, পাট, চামড়া ও পুতির তৈরি বাহারি গৃহস্থালি ও গৃহসজ্জার সামগ্রীতে পুরো প্যাভিলিয়ন সাজানো হয়েছে। বিশেষ করে জামদানি শাড়ি ও নকশিকাঁথার প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ চোখে পড়ার মতো।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বাঁশ ও বেতের মোড়া, পাটের তৈরি টেবিল-চেয়ার, কাঠের নৌকা ও শোপিস, পাটজাত ব্যাগ, জুতা, লুঙ্গি, গামছা, বিছানার চাদর, পাপোশ ও কুলাসহ নানা ধরনের পণ্য রয়েছে এই স্টলে। টেকসই নির্মাণ ও নান্দনিক নকশার কারণে এসব পণ্যের বিক্রি-বাটাও সন্তোষজনক বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে রেখেই পণ্যের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। জামদানি শাড়ি বিক্রি হচ্ছে তিন হাজার থেকে সাত হাজার টাকায়। সিংহাসন চেয়ার পাওয়া যাচ্ছে চার হাজার টাকায়। সব মিলিয়ে ৩০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকার মধ্যে পণ্য ঘুরে দেখছেন দর্শনার্থীরা।

কারা পণ্য প্যাভিলিয়ন ঘুরে দেখার পর দর্শনার্থীরা আগ্রহের সঙ্গে নিজেদের অনুভূতি ও মতামত জানাচ্ছেন। প্রথমবার মেলায় আসা বসুন্ধরার বাসিন্দা ও বর্তমানে ফিনল্যান্ড প্রবাসী রুবেল এইচ কামরুল বলেন, তিনি আগে জানতেন না যে কারাগারে তৈরি পণ্য বাইরে বিক্রি হয়। মেলায় এসে বিষয়টি জানতে পেরে কৌতূহলবশত প্যাভিলিয়নে ঢোকেন তিনি। তার ভাষায়, পণ্যগুলোর মান ভালো এবং দামও সাধারণ মানুষের জন্য বেশ সাশ্রয়ী। তবে কারা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে পেশাদার ডিজাইনার যুক্ত করা হলে পণ্যের নকশা ও মান আরও উন্নত হবে বলে তিনি মনে করেন। এতে বিশেষ করে উচ্চবিত্ত ও রুচিশীল ক্রেতাদের কাছেও এসব পণ্যের গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে।

স্কুলছাত্রী তায়েবা বলেন, কারা পণ্যগুলো বিভিন্ন অপরাধে সংশোধনাধীন মানুষের হাতে তৈরি হলেও প্রতিটি পণ্যে নতুন চিন্তা ও সৃষ্টিশীলতার ছাপ স্পষ্ট। তাদের তৈরি জিনিসগুলো সুন্দর, আকর্ষণীয় এবং ইউনিক। পণ্যগুলো দেখে তার খুব ভালো লেগেছে বলেও জানান তিনি।

মিরপুর থেকে আসা আরেক দর্শনার্থী লামিয়া বলেন, কারাগারে বন্দিদের উদ্দেশ্য কেবল শাস্তি দেওয়া নয়, বরং তাদের জীবনে পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি করা। কারাবন্দিরা এই হাতে তৈরি পণ্যগুলোর মাধ্যমে বোঝাতে চাইছেন যে তারা পরিবর্তন হতে চান এবং নতুন জীবনের পথে এগোচ্ছেন। তার মতে, এসব পণ্য সেই পরিবর্তনেরই প্রতীক।

তিনি আরও বলেন, কারা পণ্য প্যাভিলিয়নে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী কাঠ, বাঁশ ও বেতের কাজ নতুনভাবে তুলে ধরা হয়েছে। কুলা, কাঠের তৈরি ঘরোয়া সামগ্রীসহ যেসব জিনিস একসময় আমাদের নানি-দাদিরা ব্যবহার করতেন, সেগুলো আজ নতুন প্রজন্মের কাছেও আবার জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এই ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও পুনর্জীবিত করার উদ্যোগের জন্য তিনি কারা কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট কারাবন্দিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

তার ভাষায়, শাড়ি, বেতের সামগ্রী, মোমবাতি ও অন্যান্য হস্তশিল্পের প্রতিটি পণ্যই শ্রমনির্ভর এবং সম্পূর্ণ হাতে তৈরি। নিজেদের শ্রম ও দক্ষতা দিয়ে এসব পণ্য তৈরি করার জন্য কারাবন্দিদের তিনি ধন্যবাদ জানান এবং এই উদ্যোগকে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের একটি শক্ত বার্তা হিসেবে দেখছেন।

কারা পণ্য প্যাভিলিয়নের দায়িত্বে থাকা ডেপুটি জেলার তানজিল রূপালী বাংলাদেশকে জানান, দেশের বিভিন্ন কারাগারের বন্দিদের তৈরি ৩০০টিরও বেশি পণ্য এখানে প্রদর্শন ও বিক্রি করা হচ্ছে। বিক্রির অর্থের ৫০ শতাংশ বন্দিরা পান এবং বাকি ৫০ শতাংশ সরকারি কোষাগারে জমা হয়। এর মাধ্যমে বন্দিরা আয় করার পাশাপাশি আত্মনির্ভরশীল হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এই অর্থ তারা নিজেদের ও পরিবারের প্রয়োজনে ব্যয় করতে পারেন। সংশোধনের মাধ্যমে বন্দিরাও যে সৃষ্টিশীল হয়ে সমাজে ফিরে আসতে পারেন, সেই বার্তাই মেলার মাধ্যমে তুলে ধরা হচ্ছে।

মাসব্যাপী ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকছে। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে মেলা চলবে রাত ১০টা পর্যন্ত। ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের কাছে কারা পণ্য প্যাভিলিয়ন এখন শুধু কেনাবেচার স্থান নয়, বরং সংশোধন, আত্মমর্যাদা এবং নতুন জীবনের আশার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!