নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলায় রাতের আঁধারে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ব্যবহার করে দেশি ও অতিথি পাখি শিকারের একটি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল অবিলম্বে অবৈধ পাখি শিকার বন্ধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ ও নিয়মিত নজরদারির দাবি জানায়।
উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নের শালইপাড়া এলাকার ধোপার বিল এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে এভাবে পাখি শিকার চলছে বলে স্থানীয়রা জানান।
শুক্রবার (০৯ জানুয়ারি) সকালে সরেজমিন ধোপার বিল এলাকায় গিয়ে এ অবৈধ কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া যায়। দেখা যায়, বিলের দুই প্রান্তে লাঠির সঙ্গে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল বেঁধে টানটান করে পেতে রাখা হয়েছে। উড়ে যাওয়ার সময় পাখিগুলো ওই জালে আটকা পড়ছে। পরে শিকারিরা সেগুলো সংগ্রহ করে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
পাঁকা ইউনিয়নের ধোপার বিলের কৃষক সাখওয়াত হোসেনের জমিতে কারেন্ট জালে আটকানো অবস্থায় দুটি পেঁচা, একটি শালিক ও একটি বাবুই পাখি পাওয়া যায়। এর মধ্যে একটি পেঁচা ও একটি বাবুই পাখি মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। জীবিত একটি শালিক ও একটি পেঁচার শরীরজুড়ে জাল পেঁচানো অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে একটি শালিক ও একটি পেঁচাকে নিরাপদ পরিবেশে অবমুক্ত করা হয়।
জমির মালিক সাখওয়াত হোসেন (৪২) বলেন, ‘ধান রোপণের জন্য জমি প্রস্তুত করতে এসে এসব ফাঁদ চোখে পড়ে। লোকচক্ষুর আড়ালে শিকারিরা জালে ধরা পাখি নিয়ে যায় এবং পরে স্থানীয়ভাবে বিক্রি করে। প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ছাড়া এ অপরাধ বন্ধ হবে না।’
জমিতে কাজ করা কৃষক রনি (৩৩) জানান, এক মাসের বেশি সময় ধরে তিনি এ মাঠে কাজ করছেন। প্রায় প্রতিদিন রাতেই কেউ না কেউ এসে এভাবে ফাঁদ পেতে পাখি শিকার করে নিয়ে যায়।
শালইপাড়া এলাকার কৃষক কালাম (৫৫) বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে এই অপরাধ চলছে। দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া জরুরি।’
জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফেডারেশন (বিবিসিএফ)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সবুজ বাংলার সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বি বলেন, ‘পাখি শিকার একটি মারাত্মক অপরাধ এবং জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ। দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, ‘পাখি শিকার সম্পূর্ণ বেআইনি ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। দ্রুত সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে অভিযান পরিচালনা করা হবে।’

