× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

নেত্রকোণা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২৭, ২০২৫, ০১:১৮ পিএম

ভুয়া সনদ বানিয়ে কোটিপতি শাওন, জানা গেল চাঞ্চল্যকর তথ্য

নেত্রকোণা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২৭, ২০২৫, ০১:১৮ পিএম

মওদুদ আহমেদ শাওন। ছবি : সংগৃহীত

মওদুদ আহমেদ শাওন। ছবি : সংগৃহীত

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে ভুয়া সিল স্বাক্ষর বসিয়ে ১৩ রোহিঙ্গা নাগরিকের জন্মনিবন্ধন তৈরির অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার নাম মওদুদ আহমেদ শাওন (৩৫)। মোহনগঞ্জ পৌরশহরের টেংগাপাড়া এলাকার বাসিন্দা তিনি। শাওনের স্ত্রী ঝর্ণা আক্তার উপজেলার ৭ নম্বর গাগলাজুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) উদ্যোক্তা। স্ত্রীর হয়ে ইউনিয়নের জন্মনিবন্ধনসহ অনলাইনের সব কাজ করতেন শাওন।

পুলিশ ও স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চার থেকে পাঁচ বছর আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে টেকনিশিয়ান পদে আবেদন করেন শাওন। চাকরি না হলেও তখন থেকেই ওই কার্যালয়ের সব অনলাইন কাজকর্মের দায়িত্ব পালন করা শুরু করেন তিনি। একপর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার টিসিবি কার্ড সংযোজন ও যাচাই-বাছাই সংক্রান্ত ওয়েবসাইট ও জন্ম-মৃত্যুনিবন্ধন ওয়েবসাইটের পাসওয়ার্ডসহ সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন শাওন। ইউএনও কার্যালয়ে কাজের প্রভাব খাটিয়ে উপজেলার অন্য সাতটি ইউনিয়নের জন্ম-মৃত্যুনিবন্ধনসহ সব কাজের নিয়ন্ত্রণও করেন তিনি। চেয়ারম্যান-মেম্বারদের সিল স্বাক্ষর নকল করে অবৈধ জন্মনিবন্ধন তৈরির বাণিজ্য শুরু করেন। কয়েক বছরের ব্যবধানে বনে যান কোটিপতি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শাওনের ঘনিষ্ঠ একাধিক ব্যক্তি জানান, ইউএনও কার্যালয়ের সকল সরকারি আইসিটি প্রোগ্রামের দায়িত্বে থাকতেন শাওন। সবাই তাকে ইউএনও কার্যালয়ের আইসিটি প্রোগ্রামার বলেই জানে। এমনকি ওই কার্যালয়ের সব সরকারি ওয়েবসাইটের পাসওয়ার্ডও শাওনের কাছে থাকত। ইউএনওদের ব্যবহৃত পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে সব কাজ করতেন শাওন। এই সুযোগে চেয়ারম্যান-মেম্বারদের নকল সিল স্বাক্ষর তৈরি করে ভুয়া জন্মনিবন্ধন তৈরি করে লাখ লাখ টাকা কামিয়েছেন। ইতোমধ্যে ৪০ লাখ টাকা দিয়ে কয়েকটি হারভেস্টার মেশিন কিনেছেন শাওন। পাশাপাশি ময়মনসিংহ শহরেও জায়গা কিনেছেন তিনি।

সম্প্রতি প্রতারণার অভিযোগে গাগলাজুর ইউনিয়নের সচিব রাজিব মিয়া বাদী হয়ে শাওনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন। এরপর ২৪ ডিসেম্বর দুপুরে মোহনগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সামনের একটি দোকান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহনগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জয় পাল বলেন, সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে ২৫ ডিসেম্বর বিকেলে শাওনকে আদালতে পাঠানো হয়। পরে আদালতে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এ বিষয়ে মোহনগঞ্জ থানার ওসি মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, চেয়ারম্যান-মেম্বারের ভুয়া সিল স্বাক্ষর বসিয়ে অন্য জেলার ১৩ নাগরিকের জন্মনিবন্ধন তৈরি করে দিয়েছেন শাওন। ওই ১৩ জনকে রোহিঙ্গা বলে ধারণা করা হচ্ছে। শাওন তার ব্যবহৃত সাইটটির ইউজার পাসওয়ার্ড হ্যাক হয়েছে বলে দাবি করলেও প্রাথমিক তদন্তে এটি মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। আশা করছি, তদন্তে আরও অনেক কিছু বেরিয়ে আসবে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা খাতুন বলেন, আমি আসার পরই সব পাসওয়ার্ড তার থেকে নিয়ে নিয়েছি। বাইরের জেলার ১৩ জন লোককে এখানকার জন্মনিবন্ধন করে দেওয়ার বিষয়টি টের পাওয়ার পরই অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। পুলিশি তদন্তে বিস্তারিত বের হয়ে আসবে।

জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান বলেন, বিষয়টি জেনে ইউএনওকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। জেলার আর কোথাও যেন কেউ এমন কাজ করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে বলা হয়েছে। বিষয়টি আমরা নজরদারি করব।

Link copied!