নেত্রকোনার মদন উপজেলায় শিশু ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। বুধবার (৬ মে) ভোর ৪টা ১৫ মিনিটের দিকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা থেকে র্যাব-১৪ এর একটি অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মদন থানার ওসি তরিকুল ইসলাম। তিনি জানান, দুপুর ১টার দিকে র্যাবের পক্ষ থেকে আসামিকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এরপর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে দ্রুত আদালতে পাঠানো হবে।
র্যাব জানিয়েছে, দুপুর ১২টায় এ চাঞ্চল্যকর মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার বিষয়ে প্রেস ব্রিফিং করবেন র্যাব-১৪ এর অধিনায়ক।
মামলার সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ এপ্রিল ভুক্তভোগীর মা মদন থানায় অভিযুক্ত আমান উল্লাহ সাগরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। তিনি উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের পাঁচহার বড়বাড়ি গ্রামের মৃত শামসুদ্দিন মিয়ার ছেলে এবং একটি স্থানীয় কওমি মাদ্রাসার পরিচালক ও শিক্ষক।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠিত ওই মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত ভুক্তভোগী শিশু। জীবিকার তাগিদে তার মা সিলেটে গৃহকর্মীর কাজ করতেন এবং শিশুটি নানির কাছে থেকে পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছিল।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে ওই শিক্ষক শিশুটিকে ধর্ষণ করেন এবং বিষয়টি গোপন রাখতে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। পরে শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন দেখে সন্দেহ হলে তার মা বাড়ি এসে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং ঘটনার বিষয়টি জানতে পারেন।
পরবর্তীতে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে পরীক্ষায় জানা যায়, শিশুটি প্রায় পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, মামলার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন।


