ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নোয়াখালীর হাতিয়ায় হিন্দু সম্প্রদায়সহ বিভিন্ন পরিবারের ওপর হামলা, ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগ তুলে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের অভিযোগ, নির্বাচন ও ফল ঘোষণার পর ১১ দলীয় জোটের শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমর্থকেরা এসব সহিংসতায় জড়িত।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) হাতিয়া উপজেলার সোনাদিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের রিয়াজ মার্কেট এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে অর্ধশতাধিক ভুক্তভোগী অংশ নেন। তারা নির্বাচন–পরবর্তী সহিংসতায় নিজেদের ক্ষয়ক্ষতির বর্ণনা দেন এবং দোষীদের বিচারের দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ভোটের দিন থেকে ফল ঘোষণার পর পর্যন্ত সোনাদিয়া বাংলাবাজার ও রিয়াজ মার্কেট এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করা হয়। ফল ঘোষণার পর অন্তত ১০টি বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে। ঘরে ঢুকে গালিগালাজ, লুটপাট এবং গবাদিপশুর ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে। এমনকি ভোট শেষের কয়েক দিন পরও ভুক্তভোগীদের যেখানেই পাওয়া যাচ্ছে, সেখানেই মারধর করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন দীপক চন্দ্র দাস, দুর্জয় ধন দাস, প্রিয়াঙ্কা বালা দাস, কাকন চন্দ্র দাস, দেব দাসসহ আরও অনেকে। তারা চলমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসুদ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ সময় দীপক চন্দ্র দাস বলেন, ভোটের পরদিন রাতে বাজারে তাকে ও তার ছেলেকে মারধর করা হয়।
দুর্জয় ধন দাসের স্ত্রী অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা তাদের গবাদিপশু পিটিয়ে আহত করেছে এবং বাড়ি ছাড়ার হুমকি দিয়েছে।
কাকন চন্দ্র দাস জানান, তাকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। একাধিক নারী ভুক্তভোগী বলেন, বিজয় মিছিলের সময় বাড়িতে ঢুকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মারধর করা হয়, যার কারণে অনেকে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে থাকতে বাধ্য হয়েছেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, এনায়েত হোসেন, মহিউদ্দিন, হান্নান ডুবাই, ওছমান ও জহিরুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র এসব হামলার সঙ্গে জড়িত। তাদের সহযোগী হিসেবে আরও কয়েকজনের নামও উল্লেখ করা হয়।
এদিকে বুড়িরচর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে গৌরহরি মাঝি বাড়ির মৃদুল চন্দ্র দাসের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্রের পাশে বাড়ি হওয়ায় বিষয়টি নৌবাহিনীর সদস্যদের জানানো হলেও তাৎক্ষণিক কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রত্যক্ষদর্শী পল্লী চিকিৎসক খনেশ দাস জানান, হামলাকারীরা তাকে অস্ত্র দেখিয়ে হুমকি দেয়। নিরাপত্তাহীনতার কারণে তিনি এখনো নিয়মিত বাজারে যেতে পারছেন না।
চরইশ্বর ইউনিয়নের মুলা মার্কেটে হাজি কামাল সর্দারের সাতটি ঘরে দুর্বৃত্তরা আগুন দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় একটি গাড়ি ও দুটি সিএনজিও পুড়ে গেছে। কামাল সর্দার দাবি করেন, ঘটনার আগে তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল।
এ বিষয়ে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম বলেন, ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দিলে পুলিশ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবে। তিনি আরও বলেন, কিছু ঘটনা স্থানীয়ভাবে সামাজিক সমঝোতার মাধ্যমে মীমাংসা হচ্ছে বলেও পুলিশ জানতে পেরেছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন