× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

আক্কেলপুর (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: মে ৭, ২০২৬, ০৭:৩৬ পিএম

আক্কেলপুরে ঝড়ে মাটিতে নুইয়ে পড়েছে ৯০০ হেক্টর জমির ধান

আক্কেলপুর (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: মে ৭, ২০২৬, ০৭:৩৬ পিএম

ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলায় প্রায় ৯০০ হেক্টর জমির বোরো ধানগাছ মাটিতে নুইয়ে পড়েছে। এতে কৃষি খাতে নেমে এসেছে ভয়াবহ বিপর্যয়। এই অপ্রত্যাশিত ক্ষতিতে চরম হতাশায় ভুগছেন কৃষকরা। তবে কৃষি অধিদপ্তর ধানগাছগুলো আঁটি বেঁধে দেওয়া ও দ্রুত পানি অপসারণের পরামর্শ দিচ্ছে।

বুধবার (৭ মে) দুপুর সোয়া ১টার দিকে হঠাৎ করে উপজেলার ওপর দিয়ে একটি কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যায়, যা প্রায় আধা ঘণ্টা স্থায়ী হয়। ঝড়ের পাশাপাশি শিলাবৃষ্টিও হয়। শিলাবৃষ্টিতে আক্কেলপুর পৌরসভার মাঝগ্রাম, কোচকুড়ি এবং উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের আবাদপুর মাঠে সবচেয়ে বেশি পাকা ও আধাপাকা ধানগাছ মাটিতে পড়ে গেছে। এতে ধান পচে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। 

কৃষকরা বলছেন, বিঘাপ্রতি দুই মণ ধান হওয়াও সম্ভব হবে না।

উপজেলা কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আক্কেলপুরে এ পর্যন্ত প্রায় ৮৯৫ হেক্টর জমির ধান ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, শুধু ঝড় ও বৃষ্টি হলে এত ব্যাপকভাবে ধানগাছ নুয়ে পড়ত না। মূলত শিলাবৃষ্টির কারণেই আবাদপুর, কোচকুড়ি, মাঝগ্রাম ও শান্তা মাঠে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কৃষি বিভাগের প্রাথমিক হিসাবে, আবাদপুর মাঠের প্রায় ৮০ শতাংশ ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ ছাড়া অন্যান্য মাঠে গড়ে প্রায় ১০ শতাংশ ধান নষ্ট হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে, আক্কেলপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত মাঠ পরিদর্শন করছেন। পাশাপাশি কৃষকদের বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন এবং নুয়ে পড়া ধানগাছগুলো আঁটি বেঁধে দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।

কোচকুড়ি মাঠের কৃষক নয়ন মহন্ত বলেন, ‘আমার দেড় বিঘা জমির ধান ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে নুয়ে গেছে। জমির ধান প্রায় আধাপাকা হয়েছে। আলুতে লোকসানের পর ঋণ করে অনেক কষ্টে ধান আবাদ করেছিলাম। এখন আশঙ্কা করছি, সব ধান নষ্ট হয়ে যাবে। কীভাবে ঋণের টাকা শোধ করব, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছি।’

আবাদপুর গ্রামের কৃষক আলী হোসেন বলেন, ‘শিলাবৃষ্টির কারণে আমাদের মাঠের অধিকাংশ ধান মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। কৃষি কর্মকর্তারা এসে গাছগুলো আঁটি বেঁধে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু বর্তমানে শ্রমিক সংকট থাকায় সেই কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। দ্রুত শ্রমিক না পেলে জমিতে পড়ে থাকা ধান পচে যাবে। এতে এলাকার কৃষকরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই শিলাবৃষ্টির কারণে বিঘাপ্রতি দুই মণ ধান হওয়াও কঠিন হয়ে পড়বে।’

আক্কেলপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেন বলেন, ‘আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন মাঠের ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি আবাদপুর মাঠের ধান মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। ক্ষতি কমাতে কৃষকদের দ্রুত পানি অপসারণ ও ধানগাছ আঁটি বেঁধে দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ কে এম সাদিকুল ইসলামসহ আমি সরেজমিনে মাঠগুলো পরিদর্শন করেছি। ইতোমধ্যে ক্ষয়ক্ষতির একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে।’

Link copied!