ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

চলনবিলে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত মৌচাষিরা

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৭, ২০২৬, ১০:৪৮ এএম
চলনবিল অধ্যুষিত পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার সরিষা খেতের পাশে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত মৌচাষিরা। ছবি : সাখাওয়াত হোসেন

শীতের সকালের নরম রোদে সরিষা ফুলের হলুদ আভায় রঙিন হয়ে উঠেছে চলনবিল অধ্যুষিত পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠ। ফুলের রেণু সংগ্রহে মৌমাছির অবিরাম যাতায়াতে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পেয়েছে গ্রামবাংলা।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে সরেজমিন ভাঙ্গুড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, দিগন্তজোড়া সরিষা ফুলের মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য মুগ্ধ করছে পথচারী ও দর্শনার্থীদের। মাঠে কৃষকেরা সরিষার পরিচর্যায় ব্যস্ত থাকলেও খেতের পাশে সারিবদ্ধ মৌবাক্স বসিয়ে মধু সংগ্রহ করছেন মৌচাষিরা।

ভাঙ্গুড়া উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় মোট ৬ হাজার ৬৩৫ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। উন্নত জাতের বীজ ব্যবহারের কারণে ভালো ফলনের আশা করছেন কৃষকরা। সরিষা চাষকে কেন্দ্র করে অন্যান্য বছরের মতো এবারও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ভাঙ্গুড়ায় এসেছেন মৌচাষিরা। এতে একদিকে সরিষার পরাগায়ন বৃদ্ধি পাচ্ছে, অন্যদিকে তেলের উৎপাদনও বাড়ছে। ফলে কৃষক ও মৌচাষি—উভয়ই লাভবান হচ্ছেন।

ভাঙ্গুড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মৌচাষিরা জানান, প্রতি বছর চলনবিল অধ্যুষিত এই অঞ্চলের সরিষা খেত তাদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে আসে। সরিষা ফুলের প্রাচুর্যের কারণে এবার মধুর মান ও উৎপাদন দুটিই ভালো হবে বলে তারা আশাবাদী।

উত্তরবঙ্গ মৌচাষি সমিতির সভাপতি মো. আব্দুর রশিদ বলেন, অনেক মৌচাষিকে কৃষি প্রণোদনার আওতায় মৌবাক্স দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে কৃষি বিভাগ উৎপাদন বৃদ্ধিতে কাজ করছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ভাঙ্গুড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শারমিন জাহান রূপালী বাংলাদেশকে জানান, সরিষা খেতের পাশে মৌবাক্স স্থাপনের ফলে পরাগায়ন বৃদ্ধি পায় এবং এতে সরিষার ফলন ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। এতে কৃষক, খামারি ও সাধারণ ভোক্তা—সবাই উপকৃত হন। সরিষা ফুলের হলুদ সৌন্দর্য আর মৌমাছির কর্মব্যস্ততায় ভাঙ্গুড়ার মাঠ এখন সম্ভাবনার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।