× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

পিরোজপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: মার্চ ৩, ২০২৬, ০৪:২৮ পিএম

বিয়ের অভিনয়ে প্রবাসীর ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

পিরোজপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: মার্চ ৩, ২০২৬, ০৪:২৮ পিএম

ভুক্তভোগী

ভুক্তভোগী

পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে বিয়ের অভিনয়ে ইউসুফ আলী (৪৮) নামে এক সৌদি প্রবাসীর অর্থ ও স্বর্ণালংকার আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে দুই সন্তানের জননী হাসিবা আক্তার (৩০) নামে এক নারীর বিরুদ্ধে। প্রবাসী ইউসুফ আলী নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার সানারপাড় ইউনিয়নের নয়াআটি-রসুলবাগ এলাকার ফরিদ মিয়ার ছেলে। হাসিবা আক্তার ইন্দুরকানী উপজেলার বালিপাড়া গ্রামের রুহুল আমিন খানের মেয়ে।

ভুক্তভোগী প্রবাসীর অভিযোগ, সৌদি আরবে থাকা অবস্থায় মোবাইলফোনে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে হাসিবার সঙ্গে। সেই সুবাদে দীর্ঘ ৭/৮ বছর সম্পর্ক চলে তাদের। ওই সময় ভিডিও কলের মাধ্যমে ২০২৪ সালের মে মাসের ২৬ তারিখে তাদের বিয়ে হয়। পরে প্রবাস থেকে দেশে এসে বালিপাড়া গ্রামের পার্শ্ববর্তী পশ্চিম বালিপাড়া এলাকায় হাসিবার দুলাভাইয়ের বাসায় দুলাভাই মাসুম বয়াতিকে স্বাক্ষী রেখে গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসের ১৭ তারিখে পুনরায় তারা কাজীর মাধ্যমে ৫ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করে বিয়ে করেন। তখন ৭ ভরি স্বর্ণালংকার উপহার হিসেবে হাসিবাকে দেন ইউসুফ।

সরেজমিন জানা যায়, পূর্বে হাসিবা আক্তারের পশ্চিম বালিপাড়া গ্রামের শাহ আলী ফরাজির ছেলে রুহুল আমিন ফরাজির (৪০) সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। সেখানে তাদের একটি মেয়ে এবং একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। পরে গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসের ৭ তারিখে হাসিবা তার পূর্বের স্বামী রুহুলকে তালাক দেন। এরপর ইউসুফকে তালাক দিয়ে একই বছরের অক্টোবর মাসের ২২ তারিখে পূর্বের স্বামী রুহুল আমিন এর কাছে ফিরে যান। এ ঘটনায় পরিবারের একেক সদস্য দিচ্ছেন ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য।

দুলাভাই মাসুম বয়াতি বলেন, আমার শালিকা হাসিবা ভাই হিসেবে ইউসুফকে আমার সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল। সেই হিসেবে আমার বাড়ি বেড়াতে এসেছিল ইউসুফ। তখন আমার শ্বশুর, শাশুড়ি এবং শ্যালক বাসার ও আমিনুলও বেড়াতে এসেছিল। বিয়েতে স্বাক্ষীর বিষয়ে তিনি বলেন- আমাকে হাসিবা ও ইউসুফ বলেছে- ইউসুফ প্রবাসে থাকা অবস্থায় ফোনে বিয়ে হয়েছে। তার জন্য আমি কাজীর ফোন নম্বর ওদের দিই। ওরা কাজীকে কল দিলে তিনি আমার বাড়িতে এসে হাসিবা ও ইউসুফের বিয়ে পড়িয়ে যান। এ বিয়েতে আমি স্বাক্ষী ছিলাম।

হাসিবার ভাই আমিনুলের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি।

ওই নারীর বর্তমান স্বামী রুহুল আমিন বলেন, আমার স্ত্রীর দুলাভাই, শ্বশুর, শাশুড়ি এবং স্ত্রীর বড় ভাই টাকার লোভে পড়ে এ কাজ করেছে। আমি আমার আগের স্ত্রীকে আবারও গ্রাম্য শুরা দিয়ে বিয়ে করেছি।

অভিযুক্ত হাসিবা বলেন, বিয়ে করলে কি ডিভোর্স দেওয়া যাবে না? আমার বিভিন্ন ছবি ছড়িয়ে দিয়েছে তাই ইউসুফের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করেছি। যা বলার আদালতে বলব।

হাসিবার বাবার বাড়িতে সাংবাদিকরা গেলে পরিবারের লোকজনের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, হাসিবার সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক নেই।

ভুক্তভোগী ইউসুফ আলী জানান, বিয়ের কিছুদিন পর আমার কাছে নগদ ১০ লাখ টাকা দাবি করে হাসিবা। আমি কিছুদিন সময় চাইলে সে উত্তেজিত হয়ে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে এবং আমার সাথে সকল যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। আমি তখন বুঝতে পারি যে হানিট্রাপে পড়েছি। দুই সন্তানের জননী হাসিবা আক্তার আমার সঙ্গে বিয়ের অভিনয় করে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাত করেছে। আমি প্রশাসনের কাছে সঠিক বিচার দাবি করছি।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তারা বলেন- এ ধরনের কর্মকাণ্ডে এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। ভুক্তভোগী ওই প্রবাসী ইউসুফ আলী হাসিবাকে বৈধ স্ত্রী দাবি করে পুনরায় সংসারে ফিরে পেতে উকিল নোটিশ পাঠিয়েছে বলে সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!