× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

নাছরুল্লাহ আল-কাফী, পিরোজপুর

প্রকাশিত: মার্চ ৬, ২০২৬, ০৬:৪৮ পিএম

কম খরচে লাভ বেশি, কুল চাষে চাষীদের সফলতা

নাছরুল্লাহ আল-কাফী, পিরোজপুর

প্রকাশিত: মার্চ ৬, ২০২৬, ০৬:৪৮ পিএম

ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় পিরোজপুর জেলার কৃষকদের মধ্যে কুল চাষের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। মাটি ও আবহাওয়া উপযোগী হওয়ায় জেলায় কুল চাষে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। প্রতি বছর বাণিজ্যিকভাবে কুল উৎপাদনের জন্য নতুন নতুন বাগান করা হচ্ছে। অল্প খরচে ফলন ভালো হওয়ায় এবং বাজারে দাম ভালো পাওয়ায় কৃষকেরা অন্যান্য ফসলের তুলনায় কুল চাষে বেশি আগ্রহী হচ্ছেন।

পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানী উপজেলার পত্তাশী গ্রামে কৃষির চিত্র দ্রুত বদলাচ্ছে। এক সময় যেখানে কৃষকেরা ধান ও কলা চাষের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন, সেখানে গত কয়েক বছরে কুল চাষ নতুন ভরসা হয়ে উঠেছে। বর্তমানে এই গ্রাম ও আশপাশের এলাকায় শতাধিক কুলের বাগান গড়ে উঠলেও, এর পেছনে যেমন রয়েছে লাভের সম্ভাবনা, তেমনি রয়েছে পরিকল্পনা ও সরকারি সহায়তা সংক্রান্ত নানা প্রশ্ন।

এই এলাকায় বর্তমানে আপেল কুল, বল সুন্দরী, থাই ও বাউ কুল জাতের কুল চাষ হচ্ছে। এর মধ্যে বল সুন্দরী ও আপেল কুল বাজারে বেশি দামে বিক্রি হওয়ায় কৃষকেরা এসব জাতে ঝুঁকছেন। বর্তমানে বাগান থেকে প্রতি কেজি কুল ৯০ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় বাজারে এই কুলের যথেষ্ট প্রশংসা পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়াও এখানকার কুল ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন বড় বাজারে যাচ্ছে।

মাঠপর্যায়ে দেখা গেছে, অনেক কৃষক নিজ উদ্যোগে চাষ শুরু করলেও সরকারি প্রশিক্ষণ বা কৃষি বিভাগের নিয়মিত তদারকি সীমিত। কীটনাশক ও সার ব্যবহারে সঠিক নির্দেশনা না থাকায় কোথাও কোথাও উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কৃষকেরা বলছেন, প্রশিক্ষণ ও সহজ শর্তে কৃষিঋণ পেলে তারা আরও বাগান সম্প্রসারণ করতে পারবেন।

কৃষক শাহ আলম হাওলাদার বলেন, খুলনা থেকে কুলের চারা এনে এই কুল চাষ করেছি। আজ প্রায় ১১ বছর ধরে আমি কুল চাষ করছি। আল্লাহর রহমতে ভালো ফসল হচ্ছে। আমি মাত্র ৪ কাঠা জমিতে চাষ করেছি। এই সিজনে ১ লাখ টাকার বেশি কুল বিক্রি হবে বলে আশা করছি।

আরেক চাষি মোঃ জুয়েল হাওলাদার বলেন, কুল চাষ ভালোভাবে করলে লাভবান হওয়া যায়। ঝড় হলে ক্ষতি হয় এবং লাভ কমে। আমাদের এখানে প্রায় ১২টি কুল বাগান আছে। অনেকের সফলতা দেখে আমি এই চাষ শুরু করেছি। আমি ৩ কাঠা জমিতে চাষ করেছি, এবার আরও ৫ কাঠা জমিতে চাষ শুরু করবো। অন্য এলাকার কুলের তুলনায় আমাদের কুল মিষ্টি বেশি, তাই বাজারে চাহিদাও বেশি।

মনির হাওলাদার বলেন, আমি প্রথমে জমি কেটে প্রস্তুত করেছি। তারপর খুলনার পাইকগাছা থেকে চারা এনে রোপণ করেছি। আমি প্রায় ৩ কাঠা জমিতে বাউ কুল চাষ করেছি, এখন থেকে প্রায় ৭০-৮০ হাজার টাকার কুল বিক্রি করবো। এবার নতুন করে বল সুন্দরী চাষ করবো।

অসুস্থ থাকা বেলায়েত নামে এক চাষি বলেন, আমি অনেক বছর ধরে কুল চাষ করি, কিন্তু এখন অসুস্থ। প্রায় ১ লাখ টাকা চিকিৎসায় খরচ হয়েছে। এখন সার কিনবো না ঔষধ কিনবো। কৃষির জন্য কেউ সহযোগিতা করেনি।

এসব চাষি দাবি করেন, সরকার যদি সহজ শর্তে কৃষিঋণ দেয়, তবে তারা লাভবান হবেন এবং সরকারের টাকাও পরিশোধ করতে পারবেন।

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ধান চাষে উৎপাদন খরচ বেশি হলেও লাভ তুলনামূলক কম। অন্যদিকে কুল চাষে একবার বাগান গড়ে তুললে কয়েক বছর ফলন পাওয়া যায়, ফলে ঝুঁকি কম এবং লাভ বেশি।

কৃষকদের দাবি, অনুকূল মাটি ও আবহাওয়ার কারণে কুলের ফলন ভালো হলেও আধুনিক চাষপদ্ধতি সম্পর্কে অধিকাংশ কৃষকের পর্যাপ্ত ধারণা নেই।

পিরোজপুরের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সৌমিত্র সরকার বলেন, জেলায় প্রায় ১৪৭–১৬০ হেক্টর জমিতে কুল চাষ হয় এবং এর উৎপাদন প্রায় ১৩২১ মেট্রিক টন। কুল চাষে প্রায় ৩৫০-৪০০ কৃষক জড়িত এবং ৮০০-১০০০ মানুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে। আমরা কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছি এবং প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম ও মাঠ দিবসে তাদের উদ্বুদ্ধ করছি।

অন্য ফসলের তুলনায় কুল চাষ করে বেশি লাভ হচ্ছে। কুলের সুস্বাদু হওয়ায় বাজারে চাহিদা বাড়ছে। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের ধান, সবজি, বীজ ও সার বিনামূল্যে দিচ্ছি বলে জানান তিনি।

এদিকে জেলার নাজিরপুর ও নেছারাবাদ উপজেলাতেও কুল চাষ হচ্ছে ব্যাপক হারে। তবে কৃষি বিভাগের কার্যকর সহায়তা না থাকায় কৃষকরা পুরো সুফল পাচ্ছেন না। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সহায়তা পেলে এই খেত আরও এগিয়ে যাবে বলে স্থানীয় কৃষকেরা আশা করছেন।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!