পিরোজপুরের নেছারাবাদে রাতের আঁধারে মো. সহিদুল ইসলাম নামে এক কাঠ ব্যবসায়ীর দোকানঘর দখলের অভিযোগ উঠেছে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. চান মিয়া ওরফে চিড়া চান্দুর বিরুদ্ধে।
গত শুক্রবার (১৫ মে) রাতে জগন্নাথকাঠি বন্দরের চিড়ার মিল সংলগ্ন এলাকায় ব্যবসায়ী সহিদুল ইসলামের ভাড়াটিয়া দোকানদারদের সরিয়ে দিয়ে দোকানঘর দখলে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সহিদুল ইসলামসহ ওই দোকানের ভাড়াটিয়ারা চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তিনি স্থানীয় বাজার কমিটি ও নেছারাবাদ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জগন্নাথকাঠি বন্দরের পূর্ব পাশে চিড়ার মিল সংলগ্ন এলাকায় “নুরুল্লা অ্যান্ড ব্রাদার্স” নামে একটি দোকানঘর রয়েছে, যা সহিদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়ী আবদুল হাইয়ের কাছে ভাড়া দিয়ে আসছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৪ মে গভীর রাতে চান মিয়া কয়েকজন লোক নিয়ে এসে দোকানঘরে হামলা, লুটপাট ও দখল কার্যক্রম চালান।
সহিদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, বিষয়টি স্থানীয় ব্যবসায়ী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানানো হলে চান মিয়া তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিতে থাকেন। তিনি বলেন, ‘দখলবাজ নব্য বিএনপি নেতা চান্দুর হুমকিতে আমি জীবন নিয়ে শঙ্কায় আছি।’
লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগী আরও জানান, কয়েক বছর আগে তার মেজো ছেলে অসুস্থ হলে তিনি জগন্নাথকাঠি গ্রামের চান্দু ওঝার শরণাপন্ন হন। এ সময় চান্দু ওঝা তার নাবালিকা মেয়ের সঙ্গে সহিদুলের ছেলের বিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি কিছু জমি দাবি করেন। পরে বয়স সংশোধনের এফিডেভিটের কথা বলে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। সহিদুলের দাবি, পরে ওই স্ট্যাম্প ব্যবহার করে কৌশলে জমি আনরেজিস্ট্রিকৃতভাবে নিজের নামে নেওয়া হয়। বর্তমানে সেই জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। সহিদুল ইসলামের অভিযোগ, ওই বিরোধের জের ধরেই ব্যবসায়ী চান মিয়া বাজারে তার দোকানঘর দখল করেছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে চান মিয়া ওরফে চিড়া চান্দু বলেন, ‘আমি চান্দু ওঝার কাছ থেকে জমি কিনেছি। সেখানে সহিদুলের কী? জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান আছে। আদালতই বিষয়টি দেখবে। আমি জমি কিনেছি, তাই দখল নিয়েছি।’
এ বিষয়ে জগন্নাথকাঠি বাজার কমিটির আহ্বায়ক ও স্বরূপকাঠি পৌর বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী আনিসুজ্জামান বলেন, ‘সহিদুলের দোকানঘর দখলের বিষয়ে বাজার কমিটির কাছে লিখিত অভিযোগ এসেছে। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। কোনো ব্যক্তির দায় দল নেবে না। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দলীয় উচ্চপর্যায়ে জানানো হবে।’
নেছারাবাদ থানার ওসি মো. মেহেদী হাসান বলেন, এখনো এমন কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
-20260520191545.webp)

