রাজবাড়ীর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হলো। বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন রাজবাড়ীর কৃতী সন্তান আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টা ২৮ মিনিটে রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবন-এর দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে তিনি শপথ গ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। মন্ত্রিপরিষদসচিব ড. নাসিমুল গনির সঞ্চালনায় পুরো শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়। একই দিনে ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী শপথ নেন, যাদের মধ্যে তিনজন টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীও রয়েছেন।
২৪ জন প্রতিমন্ত্রীর তালিকায় আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ামের অন্তর্ভুক্তি রাজবাড়ী জেলাজুড়ে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে। জেলা শহর থেকে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে দেখা গেছে আনন্দ-উচ্ছ্বাস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অভিনন্দন ও শুভেচ্ছার বার্তায় ভরে উঠেছে টাইমলাইন।
দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পৃক্ততার কারণে তিনি দলীয় অঙ্গনে একজন গ্রহণযোগ্য নেতা হিসেবে পরিচিত। তৃণমূল থেকে উঠে আসা এই নেতার প্রতিমন্ত্রী হওয়াকে স্থানীয়রা দেখছেন রাজবাড়ীর রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের শক্তিশালী স্বীকৃতি হিসেবে।
স্থানীয় মতে, তার এ দায়িত্বপ্রাপ্তি রাজবাড়ীর উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নতুন গতি আনতে পারে। বিশেষ করে যোগাযোগব্যবস্থা, নদীভাঙন রোধ, পদ্মা ব্যারাজ, কৃষি ও শিক্ষা খাতে দীর্ঘদিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় পর্যায়ের সরাসরি সম্পৃক্ততা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মতে, নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় তরুণ ও অভিজ্ঞ নেতৃত্বের সমন্বয় ঘটানো হয়েছে। সেই কাঠামোর অংশ হিসেবে আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ামের অন্তর্ভুক্তি সংগঠনকে আরও সুসংহত করবে এবং নির্বাচনি এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তার সামনে এখন দ্বৈত চ্যালেঞ্জ একদিকে জাতীয় পর্যায়ে নীতি-নির্ধারণী কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রাখা, অন্যদিকে নিজ নির্বাচনি এলাকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করা। স্থানীয় নেতাকর্মীরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, তিনি জাতীয় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি রাজবাড়ীর উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নিতে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেবেন।
রাজবাড়ীর সাধারণ মানুষের ভাষায়, এটা শুধু একজন নেতার শপথ নয়, পুরো জেলার স্বপ্নের নতুন যাত্রা। এখন দেখার বিষয়, সেই স্বপ্ন কত দ্রুত বাস্তবে রূপ নেয়।

