রাজশাহীতে কয়েকদিনের ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসের কারণে তীব্র ঠান্ডায় জনদুর্ভোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। সকাল থেকেই শহর ও গ্রামাঞ্চলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ভাটা পড়েছে। বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষ, দিনমজুর, রিকশাচালক ও কৃষিশ্রমিকরা কাজে বের হতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন।
অনেক এলাকায় স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও বয়স্করা প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শীতকালীন ছুটি শেষ হওয়ায় স্কুলগামী শিশুদের ভোগান্তি বেড়েছে।
রাজশাহী আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষক লতিফা আক্তার জানিয়েছেন, রোববার ভোরে রাজশাহীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ।
এর আগে শনিবার ভোরে তাপমাত্রা ছিল ১০.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, বাতাসের আর্দ্রতা ৯৫ শতাংশ। গত শুক্রবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা মৌসুমের সর্বনিম্ন।
আবহাওয়া অফিস জানায়, উত্তর দিক থেকে আসা শীতল হাওয়া ও বাতাসে জলীয় বাষ্পের শতভাগ আর্দ্রতার কারণে শীতের অনুভূতি কয়েকগুণ বেড়েছে।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ রহিদুল ইসলাম বলেন, উত্তরাঞ্চলে শীতের প্রকোপ বাড়ছেই। সকালের ঠান্ডা বাতাস শীতের উপস্থিতি আরও বাড়াচ্ছে। বাতাসে জলীয় বাষ্প বেশি থাকায় শীত বেশি অনুভূত হচ্ছে। এই নিম্ন তাপমাত্রা রাজশাহীতে আগামী কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে।
শীতের প্রকোপ বেশি থাকায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শিশু ও বৃদ্ধরা। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা নিউমোনিয়া, সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন।
প্রচণ্ড শীতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। জীবিকার খোঁজে ভোরের কুয়াশা উপেক্ষা করে বের হয়েছেন খেটে খাওয়া দরিদ্র মানুষ, শ্রমজীবি, রিকশা চালক ও ভাসমান জনগোষ্ঠী।
নগরীর উপশহর এলাকার রিকশা চালক আব্দুল মতিন বলেন, ভোর থেকেই তীব্র কুয়াশা থাকায় রাস্তায় মানুষের চলাচল খুবই কম। সারাদিনের ভাড়া দিয়ে খরচও ওঠে না। এ অবস্থায় আমরা খুবই কষ্টে আছি।
রেলগেট এলাকার রাজমিস্ত্রি সাইফুল আলী বলেন, এই ঠান্ডায় কাজ করতে খুব কষ্ট হচ্ছে। বেলা ১২টা বেজে গেলেও সূর্যের দেখা পাচ্ছি না। কয়েকদিনের বাড়তি শীতে কাজের পরিমাণও কমে গেছে।
শীত নিবারণের জন্য ফুটপাত ও খোলা বাজারে গরম কাপড়ের বিক্রিও বেড়েছে। নগরীর সাহেবাজার, নিউমার্কেট, কোর্টস্টেশনসহ বিভিন্ন মোড়ে সোয়েটার, জ্যাকেট, শাল ও কম্বলের দোকানে ভিড় বেড়েছে।
হেলাল আলী নামের এক বিক্রেতা জানান, কম দামে ভালো পণ্য পাওয়া যাচ্ছে, তাই অস্থায়ী দোকানের চাহিদা কয়েকগুণ বেড়েছে।
সাহেববাজার জিরো পয়েন্টে সুয়েটার কিনতে আসা কলেজছাত্র রকিবুল হাসান বলেন, মার্কেটের তুলনায় এখানে ভালো জ্যাকেট-সোয়েটার কম দামে পাওয়া যায়। একই পণ্য মার্কেটে ১৫০০ টাকায় পাওয়া গেলে, এখানে ৬০০ টাকায় মিলছে। তাই টাকা বাঁচাতে এবং ভালো পণ্য খুঁজতেই এখানে আসি।
তবে নিম্নআয়ের অনেক মানুষ প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্র সংগ্রহ করতে না পারায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। কোথাও রাস্তার পাশে আগুন জ্বালিয়ে শীত থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা দেখা গেছে। সামাজিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে শীতার্তদের সহায়তার উদ্যোগ জোরদারের দাবি উঠেছে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিন রাজশাহী অঞ্চলে শীতের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে এবং রাত ও ভোরে কুয়াশা অব্যাহত থাকবে। এ অবস্থায় সবাইকে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।



