× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২০, ২০২৬, ০১:৫২ পিএম

ভাতের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে হাঁস-মুরগি হত্যার অভিযোগ

তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২০, ২০২৬, ০১:৫২ পিএম

ভাতের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে হাঁস-মুরগি হত্যার অভিযোগ। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

ভাতের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে হাঁস-মুরগি হত্যার অভিযোগ। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

রাজশাহীর তানোরে বাড়ির খৈলানে ভাতের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে নির্বিচারে শতাধিক হাঁস-মুরগি ও বাচ্চা হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) ভোর ৬টার দিকে উপজেলার তালন্দ ইউনিয়নের কালনা পূর্বপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

ক্ষতিগ্রস্ত হাঁস-মুরগির মালিক শাফিউল ইসলাম ও আশরাফুল ইসলাম বাদী হয়ে একই গ্রামের আনেস আলী কারিকরকে বিবাদী করে মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তর ও থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগকারীদের সঙ্গে গ্রামের লোকজনও গৃহপালিত হাঁস-মুরগি হত্যাকারী আনেস কারিকরের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এ ছাড়া চার-পাঁচ দিন আগে মতিউর নামের আরেক ব্যক্তির একই কায়দায় ৬টি মুরগি ও চারটি বাচ্চা মারা যায়।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, পূর্বশত্রুতার জের ধরে মঙ্গলবার সকাল ৬টার দিকে বাড়ির খৈলানে ভাতের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে ছিটিয়ে দেওয়া হয়। বাড়ি থেকে হাঁস-মুরগি বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা ভাত খেতে শুরু করে। খাওয়ার পরপরই হাঁস-মুরগি ও বাচ্চাগুলো মারা যায়। অভিযোগে আরও বলা হয়, দুই ভাইয়ের যত হাঁস-মুরগি ও বাচ্চা ছিল, সবই মারা গেছে।

শাফিউল ইসলাম জানান, ভোর ৬টার দিকে বাড়ির দরজা খোলা মাত্রই হাঁস-মুরগি বের হয়ে খৈলানে পড়ে থাকা ভাত খেতে শুরু করে। সঙ্গে সঙ্গে সব হাঁস-মুরগি মাটিতে লুটিয়ে পড়ে মারা যায়। তার পাঁচটি হাঁস, প্রায় ২৫টি মুরগি ও সমপরিমাণ বাচ্চা ছিল। সবই মারা গেছে। সামান্য কিছু মৃত হাঁস-মুরগি নিয়ে তিনি ইউএনওর কাছে এসেছেন, যাতে সঠিক বিচার পাওয়া যায়।

তার ভাই আশরাফুল ইসলাম জানান, একইভাবে বাড়ির খৈলানে ভাতের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে তার ১৫টি মুরগি ও প্রায় ১২টি মুরগির বাচ্চা মেরে ফেলা হয়েছে।

মতিউর নামের আরেক ব্যক্তি জানান, চার-পাঁচ দিন আগে তার বাড়ির উত্তরে ডাংগায় একই কায়দায় ভাত খেয়ে ৬টি মুরগি ও প্রায় পাঁচটি বাচ্চা মারা যায়।

তারা আরও জানান, হাঁস-মুরগি নির্বিচারে মেরে ফেলার পর গ্রামের লোকজন হত্যাকারী আনেসকে বিষয়টি জানালে তিনি দাম্ভিকতা দেখিয়ে বলেন, যা খুশি করতে পার। বেশি বাড়াবাড়ি করলে সবাইকে জেল খাটানো হবে। তিনি আরও বলেন, হাঁস-মুরগি না মারলে তার চাষাবাদ হতো না, এ কারণেই মারা হয়েছে। আনেস দুই থেকে আড়াই শতাংশ জমিতে দেশি আলু চাষ করেছেন। ওই জমিতেও বিষ মিশিয়ে ভাত ছিটিয়ে রাখা হয়েছে। গ্রামের মেম্বার ও মহিলা মেম্বাররা এসব বললেও তিনি কোনো গুরুত্ব দেননি। তিনি কারো কথা শোনেন না। তারা বলেন, আমরা গরিব ও অসহায়। হাঁস-মুরগি লালন-পালন করে সংসারের বাড়তি খরচ জোগান দেওয়া হয়।

জানা গেছে, মৃত হাঁস-মুরগি নিয়ে গ্রামের অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন লোক উপজেলা পরিষদের সামনে এসে গেটের সামনে ফেলে আনেসের বিচার দাবি করেন। তবে তারা সেখানে বেলা ১১টা পর্যন্ত অবস্থান করেও ইউএনওর দেখা না পেয়ে থানায় অভিযোগ দিয়ে বাড়িতে ফিরে যান।

গ্রামবাসীরা জানান, গত সোমবার সন্ধ্যায় আনেস ঘোষণা দেন যে, শাফিউল ও আশরাফুলের হাঁস-মুরগি মেরে ফেলা হবে। সেই অনুযায়ী মঙ্গলবার ভাতের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে হাঁস-মুরগি ও বাচ্চা মেরে ফেলা হয়েছে। তার কঠিন শাস্তি হওয়া দরকার, নচেৎ তাকে অনুসরণ করে আরও অনেকেই এ ধরনের নোংরা কাজ করবে।

এ বিষয়ে আনেস কারিকর বলেন, তিনি হাঁস-মুরগি মেরেছেন—এমন কোনো প্রমাণ নেই। সবাই বলছে তিনি ভাতের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে খৈলানে ছিটিয়ে দিয়ে হাঁস-মুরগি মেরেছেন—এ কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার সরিষা ও আলুর আবাদ নষ্ট করা হয়েছে। তখন তাকেই হত্যার জন্য দায়ী করা হচ্ছে কি না জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর না দিয়ে তালবাহানা করেন।

তানোর থানার ওসি শাহিনুজ্জামান জানান, অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাঈমা খান জানান, অভিযোগ হাতে পেলে উভয় পক্ষকে ডেকে তাদের বক্তব্য শোনার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!