ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

রুয়েটে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগ, তদন্তে কর্মচারী শিমুলের বিরুদ্ধে প্রাথমিক সত্যতা

রুয়েট প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মে ১১, ২০২৬, ০৮:০২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) শহীদ লেফটেন্যান্ট সেলিম হলের সেকশন অফিসার শাহ মো. জাহাঙ্গীর কামাল চৌধুরী (শিমুল)-এর বিরুদ্ধে ফের আর্থিক অনিয়ম, অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে আবারও কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়েছে।

গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে হলের কয়েকজন আবাসিক শিক্ষার্থী হল প্রভোস্ট ও উপাচার্যের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। সেখানে শিমুল ও আরেক কর্মচারী সুজনের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে টাকা আদায়, হিসাব গোপন, দায়িত্বে গাফিলতি এবং শিক্ষার্থীদের হয়রানির অভিযোগ করা হয়।

অভিযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা কম্পিউটার প্রকৌশল বিভাগের এক শিক্ষার্থীর ক্লিয়ারেন্স সংক্রান্ত। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই শিক্ষার্থী হলের বকেয়া প্রায় ১৫ হাজার টাকা নগদে পরিশোধ করলেও পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুনরায় বকেয়ার দাবি করা হয়। বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু হলে শিমুল টাকা গ্রহণের কথা স্বীকার করেন, তবে অর্থ ব্যাংকে জমা দেওয়ার কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হিসাব বইয়ের নথিতেও অসংগতি পাওয়া গেছে। একই পাতায় অন্য শিক্ষার্থীদের তথ্য কলমে লেখা থাকলেও সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর তথ্য পেন্সিলে লেখা ছিল, যা সন্দেহ আরও বাড়িয়েছে।

এ বিষয়ে শিমুল দাবি করেন, শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য তিনি অনেক সময় নগদ অর্থ গ্রহণ করতেন এবং এতে তৎকালীন প্রশাসনের মৌখিক অনুমতি ছিল। তবে তদন্ত চলাকালে তার বক্তব্যে অসামঞ্জস্য পাওয়া গেছে বলে জানা যায়।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগে আরও উঠে এসেছে, হল অ্যালটমেন্টের সময় ‘ফর্ম ফি’র নামে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হতো, যদিও এমন কোনো ফি অনুমোদিত ছিল না। এ ছাড়া ক্লিয়ারেন্সের সময় জামানতের টাকা থেকেও বিভিন্ন অজুহাতে অর্থ কেটে রাখার অভিযোগ রয়েছে।

হলের বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে দাবি করেছেন, প্রকৃত বকেয়ার তুলনায় অনেক বেশি অর্থ দাবি করা হতো এবং রিসিপ্ট নিয়েও জটিলতা সৃষ্টি করা হতো।

এসব অভিযোগ তদন্তে হল প্রশাসন দুই সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করে। তদন্ত প্রতিবেদনে আর্থিক অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে শিমুল বলেন, তিনি সবসময় শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছেন এবং ব্যক্তিগত ভুলের কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে।

হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আবু বকর সিদ্দিক বলেন, আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নথিপত্র পুনরায় যাচাই করা হচ্ছে এবং তদন্ত প্রতিবেদন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. রবিউল ইসলাম সরকার জানান, অভিযুক্ত কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগেও অনুমোদনহীনভাবে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগে শিমুলের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া হলের আরও কয়েকজন কর্মচারীর বিরুদ্ধেও অতীতে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।