রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে কৃষিজমির উর্বর টপ সয়েল (উপরের অংশের মাটি) কাটার বিরুদ্ধে প্রশাসনকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করায় ‘জুলাই যোদ্ধা’ মুরসালিন ইসলামের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ও হুমকির অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী মুরসালিন ইসলামের দাবি, টপ সয়েল কাটার সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের সদস্যরা একটি পুরোনো ফোনালাপের অডিও বিকৃত করে তাকে চাঁদা দাবির সঙ্গে জড়িত হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছে। এ ঘটনায় তিনি তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি গোদাগাড়ী উপজেলার জলাহার এলাকায় একটি ফসলি জমির টপ সয়েল কাটার প্রস্তুতির খবর পেয়ে এলাকাবাসী বাধা দেয়। পরে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানানো হলে তিনি ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে আইন লঙ্ঘনের দায়ে কামরুজ্জামান নামে এক ব্যক্তিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
মুরসালিন ইসলামের অভিযোগ, ওই জরিমানার পর থেকেই কামরুজ্জামান তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। প্রতিশোধ নিতে পূর্বের একটি ব্যক্তিগত ফোনালাপের অডিও সম্পাদনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য, ওই ফোনালাপটি ছিল তার নিজস্ব একটি উঁচু জমির মাটি বিক্রির বিষয়ে, যেখানে এক গাড়ি মাটির মূল্য নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু সেটিকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে চাঁদা দাবির অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কামরুজ্জামান দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় টপ সয়েল কাটার সঙ্গে জড়িত। এছাড়া তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও তুলে বিষয়টি তদন্তের দাবি জানান। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো প্রমাণ এই প্রতিবেদকের হাতে আসেনি।
মুরসালিন ইসলাম বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার এবং বিভিন্নভাবে হুমকি পাওয়ায় তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত কামরুজ্জামানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
গোদাগাড়ী মডেল থানার ওসি আতিকুর রহমান বলেন, এ ধরনের কোনো অভিযোগ এখনো আমাদের কাছে আসেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

