ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

রাজস্থলীতে আমের মুকুলের উৎসব

রাজস্থলী (রাঙামাটি) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬, ০৩:০২ পিএম
আমের মুকুলে ছেয়ে আছে গাছ। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

রাঙামাটি রাজস্থলী উপজেলাতে গ্রামবাংলার প্রান্তরে এখন এক অন্যরকম দৃশ্য। চারদিকে তাকালেই চোখে পড়ে আম গাছের ডালে ডালে সোনালি মুকুলের সমারোহ। চলতি মৌসুমে প্রকৃতির অনুকূল পরিবেশে প্রায় প্রতিটি গ্রামেই আম গাছগুলো মুকুলে ছেয়ে গেছে। এমন দৃশ্য দেখে স্বপ্ন বুনতে শুরু করেছেন কৃষকরা। তাদের আশা—সামান্য বৃষ্টি আর অনুকূল আবহাওয়া থাকলে এ বছর আমের বাম্পার ফলন হতে পারে।

কৃষকরা জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর শীতের তীব্রতা ও স্থায়িত্ব আমের মুকুল আসার জন্য বেশ সহায়ক হয়েছে। সময়মতো ঠান্ডা আবহাওয়া ও কুয়াশা আম গাছে পর্যাপ্ত মুকুল ধরতে সাহায্য করেছে। এখন প্রয়োজন সামান্য বৃষ্টি, যাতে মুকুল ঝরে না পড়ে এবং গুটির আকার ধারণ করতে পারে।

স্থানীয় কৃষক আমচাষি মংনু মারমা বলেন, গত বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগে কিছু ক্ষতি হয়েছিল। এ বছর গাছে প্রচুর মুকুল এসেছে। যদি ঝড়-বৃষ্টি বা রোগবালাই না হয়, তাহলে ফলন ভালো হবে এবং বাজারদরও সন্তোষজনক থাকবে। এবার গাছে গাছে এত মুকুল এসেছে যে মন ভরে গেছে। যদি ঝড়-বৃষ্টি বা রোগবালাই না হয়, তাহলে ভালো ফলনের আশা করছি। সামান্য বৃষ্টি হলে মুকুল টিকে থাকবে এবং গুটি ভালো হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আমের মুকুল আসার পর অতিরিক্ত খরা বা ঝোড়ো হাওয়া হলে মুকুল ঝরে পড়ার আশঙ্কা থাকে। আবার অতিরিক্ত বৃষ্টিও ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই এ সময়টাতে সুষম আবহাওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা চাষিদের নিয়মিত বাগান পরিদর্শন, প্রয়োজনীয় ছত্রাকনাশক প্রয়োগ এবং পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।

বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলেও এখন আমের মুকুলের সুবাসে ভরে উঠেছে পরিবেশ। যদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ না আসে, তাহলে দেশের আম উৎপাদনে নতুন রেকর্ড গড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আম শুধু সুস্বাদু ফলই নয়, এটি অনেক কৃষকের প্রধান অর্থকরী ফসল। ভালো ফলন হলে কৃষকের মুখে হাসি ফুটবে, গ্রামীণ অর্থনীতিতেও আসবে গতি। আম সংগ্রহ, পরিবহন ও বাজারজাতকরণের সঙ্গে জড়িত হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

চলতি মৌসুমে দেশের বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে আম গাছে ব্যাপক হারে মুকুল আসায় কৃষকদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। প্রাথমিক হিসেবে কৃষি বিভাগ বলছে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে গত বছরের তুলনায় এ বছর আমের ফলন ১৫–২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মৌসুমের শুরুতে আগাম জাতের আম প্রতি কেজি ৮০–১২০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে পারে। মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে সরবরাহ বৃদ্ধি পেলে দাম কিছুটা কমে ৫০–৮০ টাকার মধ্যে স্থিতিশীল থাকতে পারে। উন্নত মানের ও রপ্তানিযোগ্য আমের দাম আরও বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে কৃষকরা বাগানে পরিচর্যা আরও জোরদার করেছেন। আগাছা পরিষ্কার, গাছের গোড়ায় সেচ, জৈব ও রাসায়নিক সার প্রয়োগ—সবকিছুই নিয়ম মেনে করছেন তারা। অনেকেই বলছেন, ‘প্রকৃতি যদি সহায় হয়, তাহলে এ বছর আমের মৌসুম হবে স্মরণীয়।’

কৃষি কর্মকর্তা রাজু আহমেদ বলেন, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আমের মুকুল ভালো এসেছে। আমরা আশা করছি ফলনও ভালো হবে। তবে এখনই নির্দিষ্ট উৎপাদন পরিমাণ বলা কঠিন, কারণ মুকুল থেকে গুটি এবং পরবর্তীতে ফল টিকে থাকা অনেকটাই আবহাওয়ার ওপর নির্ভরশীল। কৃষকদের নিয়মিত পরিচর্যা ও রোগবালাই দমনে সচেতন থাকতে হবে। বাজারদরও ফলনের ওপর নির্ভর করবে, তবে ভালো ফলন হলে কৃষকরা লাভবান হবেন বলে আমরা আশাবাদী।

সব মিলিয়ে, গ্রামবাংলার আকাশ-বাতাস এখন আমের মুকুলের মিষ্টি ঘ্রাণে মাতোয়ারা। কৃষকের চোখে স্বপ্ন, মনে আশা—সামান্য বৃষ্টি আর অনুকূল আবহাওয়াই পারে এ বছরের আমের মৌসুমকে সফলতার শিখরে পৌঁছে দিতে।