ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

শীতে কাঁপছে সাতক্ষীরা, বেড়েছে রোগীর সংখ্যা

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জানুয়ারি ৬, ২০২৬, ০৩:৫৮ পিএম
ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

শীতে কাঁপছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্ত জেলা সাতক্ষীরা। একদিকে হাড় কাঁপানো শীত, অন্যদিকে হিমেল হাওয়া ও কুয়াশার কারণে বিপাকে পড়েছে প্রাণিকুলসহ খেটে খাওয়া মানুষ। সাতক্ষীরার বিভিন্ন হাসপাতালে বেড়েছে নিউমোনিয়া, ঠান্ডা, সর্দি, জ্বর ও অ্যাজমা রোগীর সংখ্যা। টানা তিন দিন ধরে সূর্যের দেখা নেই। প্রচণ্ড শীতে ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে শহরের রাস্তাঘাট ও বাজার। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শীতের প্রকোপও বাড়ছে। প্রচণ্ড শীতে বেকায়দায় পড়েছেন হতদরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষ।

সাতক্ষীরায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রোদ না ওঠা এবং বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় শীতের তীব্রতা আরও বেড়েছে।

তীব্র শীতে বিশেষ করে বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষগুলো। তারা এই তীব্র শীত উপেক্ষা করে পরিবারের সদস্যদের মুখে দুবেলা অন্ন তুলে দেওয়ার জন্য আয়-রোজগারের তাগিদে খেত-খামারে ও রাস্তাঘাটে বের হচ্ছেন। জেলায় ছিন্নমূল মানুষের অবস্থা খুবই অসহনীয়। গরম কাপড়ের অভাবে তারা প্রচণ্ড শীতে ভুগছেন। অনেকেই লতা-পাতা জ্বালিয়ে আগুন করে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। যদিও মাঝেমধ্যে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে শীতার্তদের মাঝে গরম কাপড় বিতরণ করা হচ্ছে। গরম কাপড় ছাড়া সাধারণত কেউ ঘরের বাইরে বের হতে পারছেন না।

শীতজনিত রোগের প্রকোপও বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন। শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে রোগীর চাপ বেড়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শীতজনিত নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, অ্যাজমা ও সর্দি-জ্বরে শিশু ও বয়স্করা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। শয্যা সংকটের কারণে অনেক রোগীকে মেঝেতে থেকেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক রিয়াদ হাসান বলেন, ‘এই আবহাওয়ায় শিশু ও বয়স্কদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। শীত থেকে বাঁচতে গরম কাপড় ব্যবহার এবং কুয়াশাচ্ছন্ন ভোর ও রাতের ঠান্ডা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ‘জেলার বিভিন্ন উপজেলায় হতদরিদ্র ও ছিন্নমূল মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তাপমাত্রা আরও কমলে শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম জোরদার করা হবে।’