ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

লেবাননে হামলায় নিহত দুই পরিবারে চলছে শোকের মাতম

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মে ১২, ২০২৬, ০৩:২৩ পিএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

পরিবারের সচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে সুদূর লেবাননে পাড়ি জমিয়েছিলেন সাতক্ষীরার শফিকুল ইসলাম ও নাহিদুল ইসলাম। কিন্তু নির্মম এক ড্রোন হামলা কেড়ে নিল তাদের প্রাণ, থামিয়ে দিল দুটি পরিবারের সব স্বপ্ন ও আশা।

লেবাননের জেবদিন এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় নিহত এই দুই রেমিট্যান্সযোদ্ধার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, এখন বইছে শোকের মাতম।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের ভালুকা চাঁদপুর গ্রামের আফসার আলীর ছেলে শফিকুল ইসলাম (৪০) পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে মাত্র দুই মাস আগে, গত ৩ মার্চ লেবাননে যান।

বিদেশের মাটিতে কঠোর পরিশ্রম করে পরিবারের ভাগ্য বদলানোর স্বপ্ন ছিল তার। কিন্তু সেই স্বপ্নপূরণের আগেই গত সোমবার রাত ৮টার দিকে লেবাননের জেবদিন এলাকায় কর্মস্থলে কাজ করার সময় ইসরায়েলি ড্রোন হামলার শিকার হন তিনি। ঘটনাস্থলেই তার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।

নিহতের বাড়িতে এখন শুধুই কান্নার আহাজারি। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন মা আজেয়া খাতুন। শোকে স্তব্ধ বাবা আফসার আলী ও স্ত্রী রুমা খাতুনও। শফিকুল পেশায় ছিলেন একজন দিনমজুর। তার জমিজমা বলতে ছিল তিন কাঠার মধ্যে একটি আধাপাকা বাড়ি।

একদিকে সন্তানের মৃত্যু, অন্যদিকে মাথার ওপর প্রায় ১০ লাখ টাকার ঋণের বোঝা সব মিলিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে পুরো পরিবার। স্বজন ও গ্রামবাসীরা দ্রুত শফিকুলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।

শেষবারের মতো সন্তানের মুখ দেখতে এবং নিজ গ্রামের মাটিতে দাফনের জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন তারা।

ধুলিহর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজান চৌধুরী জানান, “প্রবাসী শফিকুল আমার ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তার বাবা আফসার একজন ভালো মানুষ। শফিকুলের মৃত্যুতে আমরা সবাই শোকাহত। তিনি দুই কন্যাসন্তান রেখে গেছেন। পরিবারটি অত্যন্ত অসচ্ছল। সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতার কোনো সুযোগ থাকলে তা যেন দ্রুত করা হয়।”

অপরদিকে, আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি গ্রামের নাহিদুল ইসলাম (২০) আব্দুল কাদের ও নুরুন্নাহার খাতুন দম্পতির ছেলে বলে জানা গেছে।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব দত্ত বলেন, আমাদের সাতক্ষীরার দুই প্রবাসী রেমিট্যান্সযোদ্ধা লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে বিমান হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে একজন ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি।

জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে। পাশাপাশি মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর আবেদন করা হয়েছে।