ঢাকা শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬

যুবলীগ নেতাকে ছাড়াতে ব্যর্থ হয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা বিএনপি নেতার

শরীয়তপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২১, ২০২৫, ০১:২২ পিএম
অভিযুক্ত সখিপুর থানা বিএনপির সদস্য সচিব মাজহারুল ইসলাম সরদার । ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর থানায় আটক হওয়া এক যুবলীগ নেতাকে ছাড়াতে ব্যর্থ হয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে।

শনিবার (২০ ডিসেম্বর) রাতে থানা চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। এতে দুই সাংবাদিক আহত হয়েছেন।

আহতরা হলেন- দৈনিক নয়া দিগন্তের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার রাসেল শিকদার এবং এশিয়ান টেলিভিশনের স্থানীয় প্রতিনিধি রুহুল আমীন জুয়েল। আহত অবস্থায় তাদের ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক ও পুলিশ সূত্র জানায়, ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’-এর অংশ হিসেবে শনিবার সন্ধ্যায় ভেদরগঞ্জ উপজেলার উত্তর তারাবুনিয়া ইউনিয়নের নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী যুবলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আক্তার হোসেনকে আটক করে পুলিশ। তিনি থানা হেফাজতে থাকা অবস্থায় তাকে ছাড়িয়ে নিতে সখিপুর থানা বিএনপির সদস্য সচিব মাজহারুল ইসলাম সরদার কয়েকজন সহযোগীসহ থানায় যান।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, যাচাই-বাছাই ছাড়া আটক ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়া সম্ভব নয়। এ নিয়ে থানা চত্বরে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিক রাসেল শিকদার ও রুহুল আমীন জুয়েল ছবি তুললে ক্ষুব্ধ হয়ে বিএনপি নেতা ও তার সহযোগীরা তাদের ওপর চড়াও হন বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় সাংবাদিকদের মারধর করা হয় এবং তাদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টাও করা হয়।

আহত সাংবাদিক রাসেল শিকদার বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে থানার মতো জায়গায় হামলার শিকার হওয়া অত্যন্ত ভয়ংকর। আমরা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

অপর সাংবাদিক রুহুল আমীন জুয়েল বলেন, থানার ভেতরেও যদি সাংবাদিকরা নিরাপদ না থাকেন, তাহলে কোথায় নিরাপত্তা মিলবে- এ প্রশ্ন থেকেই যায়।

এ ঘটনায় জেলার বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা নিন্দা জানিয়েছেন।

শরীয়তপুর ইলেকট্রনিক জার্নালিস্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সচিব নুরুল আমিন রবিন বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। দ্রুত দোষীদের আইনের আওতায় আনা উচিত।

হামলার অভিযোগে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মাজহারুল ইসলাম সরদারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। হামলার বিষয়ে সরাসরি প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো উত্তর দেননি।

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সভাপতি শফিকুর রহমান কিরণ বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। কেউ যদি আওয়ামী লীগের দোসরদের পক্ষে কাজ করে থাকে কিংবা সাংবাদিকদের ওপর হামলায় জড়িত থাকে, তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সখিপুর থানার ওসি নাজিম উদ্দীন বলেন, একজন যুবলীগ নেতাকে আটক করা হয়েছে। তাকে ছাড়াতে এসে বিএনপি নেতা ক্ষুব্ধ হয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালান- এটি দুঃখজনক। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।