× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

জৈন্তাপুর (সিলেট) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: মার্চ ৬, ২০২৬, ০৭:৪৪ পিএম

প্রশাসনের অভিযানেও থামছে না টিলা কাটা, মাঠে নামছে বিশেষ টিম

জৈন্তাপুর (সিলেট) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: মার্চ ৬, ২০২৬, ০৭:৪৪ পিএম

ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় পাহাড় ও টিলা কাটার প্রতিযোগিতায় মেতেছে এক শ্রেণির প্রভাবশালী ভূমিখেকো চক্র। দিনের আলোয় পরিবেশের দোহাই দিলেও, সন্ধ্যা নামার সাথে সাথেই শুরু হয় এক্সকাভেটর (ভেকু) দিয়ে মাটি কাটার তাণ্ডব।

উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন বাড়ি ও হাওর এলাকা থেকে কৃষি ও সরকারি খাস জমি থেকে মাটি কাটা হচ্ছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার প্রেক্ষিতে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা। এসব কর্মকাণ্ডে পরিবেশ বিপর্যয়ের পাশাপাশি কৃষি জমি নষ্ট হচ্ছে।

এছাড়াও উপজেলার রাস্তা দিয়ে মাটি বোঝাই ভারি ট্রাক চলাচলের কারণে রাস্তার ভাঙন, ধুলাবালি ও স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিয়েছে। সচেতন মহল প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

তবে এবার প্রশাসনের নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি সরাসরি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও শ্রম ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী'র কঠোর নির্দেশনার পর টনক নড়তে শুরু করেছে সংশ্লিষ্টদের।

উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ নিয়মিত অভিযান চালিয়ে জরিমানা ও সরঞ্জাম জব্দ করলেও ধ্বংসযজ্ঞ থামানো যাচ্ছিল না। চক্রটি প্রশাসনের নজরদারি এড়াতে তাদের কাজের সময় ও কৌশল বারবার পরিবর্তন করছিল।

সম্প্রতি বিষয়টি উচ্চপর্যায়ের নজরে আসার পর এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর পক্ষ থেকে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের নির্দেশ আসায় স্থানীয় প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। মন্ত্রীর নির্দেশনার পর থেকে শুধু জরিমানা নয়, জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, উপজেলায় ছড়িয়ে থাকা প্রাকৃতিক পাহাড় ও কৃষি জমি রক্ষার আইন থাকলেও প্রভাবশালী চক্র তা মানছে না। রাতের অন্ধকারে তারা ডাম্প ট্রাক (ট্রলি) ও ভেকু নিয়ে নামছে।

এতে একদিকে যেমন প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে ঝুঁকিতে পড়ছে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরত সাধারণ মানুষ। স্থানীয় রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ জড়িত থাকায় প্রশাসন এই কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে।

পরিবেশবাদীরা মনে করছেন, এভাবে টিলা কাটা অব্যাহত থাকলে অঞ্চলে ভূমিধসের ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে যাবে। শুধু অভিযান নয়, বরং স্থায়ীভাবে চক্রকে নির্মূল করতে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সদিচ্ছার ওপর জোর দিতে হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা জানান, পরিবেশ ধ্বংস করে যারা পাহাড়, টিলা ও কৃষি জমি কাটছে, তারা যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, ছাড় দেওয়া হবে না। মন্ত্রীর নির্দেশনার পর আমাদের অভিযান আরও কঠোর করা হয়েছে। পাহাড়, টিলা, কৃষি জমি ও অবৈধভাবে বালু-পাথর পরিবহনে যারা জড়িত, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রয়োজনীয় তালিকা পাঠানো হয়েছে। প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষা কেবল প্রশাসনের নয়, এটি পুরো সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব। সকলের সচেতনতা জরুরি। তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করলে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে। আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!