× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১৯, ২০২৫, ১১:২৮ এএম

জীর্ণ ঘরে অনাহারে থাকা দম্পতি পেল নতুন আশ্রয়

ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১৯, ২০২৫, ১১:২৮ এএম

মতিয়ার ও রহিমা বেগম দম্পতি। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

মতিয়ার ও রহিমা বেগম দম্পতি। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে জীর্ণশীর্ণ একটি কুঁড়েঘরে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছিলেন মতিয়ার ও রহিমা বেগম দম্পতি। দীর্ঘদিন বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে গেলেও তাদের অসহায় জীবন কারও নজরে আসেনি। শীতের রাতে ফুটো ঘর, দিনের বেলায় খালি হাঁড়িএভাবেই কেটেছে তাদের প্রতিটি দিন।

সরেজমিন উপজেলার অলোয়া ইউনিয়নের চর নিকলা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, অসহায় ওই বয়স্ক দম্পতি একটি ভাঙা ঘরে বসবাস করছেন। ঘরটিতে নেই কোনো জানালা; দাঁড়ানোর মতো জায়গাও নেই। মাথা তুললেই চালায় ঠেকে যায়।

দিনের বেশির ভাগ সময়ই তারা অন্ধকারে কাটান। মেয়েদের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় তারা নিয়মিত খোঁজ নিতে পারছেন না। আর ছেলেরা আর্থিকভাবে দুর্বল হওয়ায় বাবা-মায়ের দায়িত্ব নিতে পারছেন না বলে জানান স্থানীয়রা।

অবশেষে একটি ফেসবুক পোস্ট বদলে দেয় এই দম্পতির ভাগ্য। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘মানবতার সেবায় সোহেল’-এর সেবক সোহেল ক্ষ্যাপা তাদের দুর্দশার ছবি ফেসবুকে শেয়ার করেন। মুহূর্তেই তা নজরে আসে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহবুব হাসানের।

খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইউএনও মো. মাহবুব হাসান মানবিক উদ্যোগ নেন। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ওই দম্পতির জন্য খাবার সহায়তা, বাসস্থান নির্মাণের জন্য টিন এবং নগদ ছয় হাজার টাকা বরাদ্দ দেন।

শুধু তাই নয়, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটির সদস্যদের উদ্যোগে আরও ৫৫ হাজার টাকা সহযোগিতা সংগ্রহ করা হয়। দীর্ঘদিনের কষ্ট ও দুর্দশার পর অবশেষে মতিয়ার-রহিমা দম্পতির জন্য নির্মিত হয় একটি নতুন ঘর, একটি নিরাপদ মাথা গোঁজার ঠাঁই।

স্থানীয় লালন অনুরাগী রফিকুল ইসলাম বলেন, মতিয়ারের একসময় সবই ছিল। ভাগ্যের কাছে হেরে আজ তিনি নিঃস্ব। কোনো দিন খাবার জোটে, কোনো দিন জোটে না। সোহেল ক্ষ্যাপা নিয়মিত খোঁজ নিতেন। এবার তার উদ্যোগে প্রবাসীদের সহযোগিতায় একটি ঘর তৈরি করে দেওয়া হয়েছে।

‘মানবতার সেবায় সোহেল’ পেজের অ্যাডমিন সোহেল ক্ষ্যাপা বলেন, এলাকার এক ব্যক্তির মাধ্যমে আমি তাদের অসহায়ত্বের খবর পাই। সরেজমিন গিয়ে ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করি।

সঙ্গে সঙ্গে ইউএনও স্যার বিষয়টি দেখেন এবং এসে খাবার, টিন ও নগদ সহায়তা দেন। প্রবাসী ভাইবোনদের সহযোগিতায় মোট ৫৫ হাজার টাকায় আমরা ঘরটি নির্মাণ করি। এখন তারা নিরাপদে থাকতে পারবেন।

তিনি আরও বলেন, মানুষের জন্য সামান্য কিছু করতে পেরে আমি আনন্দিত। মানুষের মধ্যেই সৃষ্টিকর্তা বিরাজমান। আমি কিছু করিনি, শুধু তার আদেশ পালন করেছি।

নতুন ঘরে দাঁড়িয়ে কৃতজ্ঞ চোখে তাকিয়ে মতিয়ার ও রহিমা বেগম বলেন, আমরা ভাবতেই পারিনি কেউ আমাদের কথা শুনবে। আল্লাহ সোহেল ভাইয়ের মাধ্যমে আমাদের ঘর দিয়েছেন।

স্থানীয়দের মতে, একজন স্বেচ্ছাসেবকের ফেসবুক পোস্ট, স্বেচ্ছাসেবীদের দৌড়ঝাঁপ এবং ইউএনওর দ্রুত মানবিক উদ্যোগ সব মিলিয়ে গড়ে উঠেছে একটি অসহায় পরিবারের পুনর্জন্মের গল্প।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুব হাসান বলেন, ‘খবর পেয়ে গিয়ে দেখি, তারা বসবাসের অনুপযোগী ঘরে থাকছেন। তখনই তাৎক্ষণিক খাবার সহায়তা ও টিন দেওয়া হয়। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মাধ্যমে আরও ৫৫ হাজার টাকা সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদেরও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো উচিত।’

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!