ঠাকুরগাঁওয়ে রাতভর বৃষ্টির মতো ঝিরঝির করে কুয়াশা ঝরছে। গত পাঁচ দিন ধরে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সূর্যের দেখা না মেলায় শীতের তীব্রতা প্রচণ্ড বেড়েছে। এতে স্বাভাবিক জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
হিমালয়ের পাদদেশের জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে শীতের তীব্রতা সাধারণতই বেশি। গত পাঁচ দিন ধরে হিমেল হাওয়া প্রবলভাবে বইছে। রাতভর বৃষ্টির মতো কুয়াশা ঝরে চলেছে। দুপুর পর্যন্ত সূর্যের দেখা না মেলায় সাধারণ মানুষ জবুথবু হয়ে পড়ছেন। এ অবস্থায় প্রয়োজন ছাড়া সাধারণ মানুষ বাড়ি থেকে বের হচ্ছেন না।
রাস্তায় মাত্র দুই-চারজনকে হাঁটাচলা করতে দেখা গেছে, যা নগণ্য। সন্ধ্যার পরপরই গ্রামের হাটবাজার জনশূন্য হয়ে যায়। শীতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ, দিনমজুর, ভ্যানচালক ও খোলা আকাশের নিচে থাকা অসহায় মানুষরা।
শীত থেকে বাঁচতে শহরের পুরাতন কাপড়ের হকার্স মার্কেটে মানুষের ভিড় বেড়েছে। গ্রামের গৃহস্থরা গবাদিপশু রক্ষায় ছেঁড়া কাঁথা, চট ও বস্তা ব্যবহার করছেন। দরিদ্র ও ছিন্নমূল মানুষ খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা চালাচ্ছেন।
ঘন কুয়াশার কারণে সড়ক ও মহাসড়কে যান চলাচল ধীরগতিতে হচ্ছে। দুর্ঘটনা এড়াতে বিভিন্ন ধরনের যানবাহন হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে।
শীতজনিত কারণে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে শিশু ও বৃদ্ধরা হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। সদর হাসপাতালে আসনের সংখ্যা ৪৫ হলেও কমপক্ষে ২০০ শিশু রোগী ভর্তি হওয়ায় চিকিৎসক ও নার্সরা হিমশিম খাচ্ছেন।
এদিকে শীতার্ত মানুষের সহায়তায় সাড়ে ৭ হাজার কম্বল এবং প্রতি উপজেলায় ৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও এখনো সাধারণ মানুষদের কাছে পৌঁছায়নি। সচেতন নাগরিক সমাজ প্রশাসন ও বিত্তবানদের শীতার্তদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, ঠাকুরগাঁও জেলায় আবহাওয়া অফিস না থাকায় পার্শ্ববর্তী পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, বুধবার সকাল ৯টায় বাতাসের তাপমাত্রা ১১.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসের আর্দ্রতা ৯৯ শতাংশ রেকর্ড করা হয়। তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন