× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৬, ০৯:২৬ পিএম

ক্ষমতায় গেলে রুহিয়া থানা হবে উপজেলা: জামায়াত প্রার্থী দেলাওয়ার

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৬, ০৯:২৬ পিএম

ছবি- সংগৃহীত

ছবি- সংগৃহীত

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের ১১ দলের মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক শিবির সভাপতি মো. দেলাওয়ার হোসেন বলেছেন, আমরা একটি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত চাই। যে রাজনীতিতে চাঁদাবাজি থাকবে না, টেন্ডারবাজি থাকবে না, দখলবাজি থাকবে না, মাস্তানি থাকবে না এবং দুর্নীতি থাকবে না। যেখানে ইনসাফ ও ন্যায়বিচার থাকবে, বৈষম্য থাকবে না এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। 

তিনি রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদরের রুহিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জামায়াত আয়োজিত নির্বাচনি সভায় এসব কথা বলেন।

রুহিয়া থানা জামায়াতের আমির আব্দুর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নির্বাচনি সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রুহিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মো. আব্দুল মান্নান। সভায় জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসেন আরও বলেন, আমরা কথায় নয়, কাজে বিশ্বাসী। আমরা ক্ষমতায় গেলে রুহিয়া থানাকে উপজেলা করা হবে। পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত সব শিশু এবং ষাটোর্ধ্ব নারী-পুরুষের জন্য বিনা মূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।

জামায়াত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন বলেন, আমরা একটি ভালো রাজনীতি দেখতে চেয়েছিলাম, কিন্তু সেই আশা মুহূর্তের মধ্যেই বিলীন হয়ে যায়। আমরা ওই রাতেই দেখেছি, শুধু হাত বদল হয়েছে, শুধু মানুষের পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু কাজের কোনো পরিবর্তন আসেনি।

দেলাওয়ার হোসেন আরও বলেন, সেই রাতের পর আমি বহু দোকানদারের সঙ্গে কথা বলেছি এবং বহু বাড়িতে গিয়েছি। তাদের আর্তনাদ ও কান্নার আওয়াজ এর আগে কেউ শোনেনি। আমি সনাতন ধর্মের ভাইদের বাড়িতেও গিয়েছি।

একজন সনাতন ধর্মের বোনের আর্তচিৎকার বর্ণনা করে দেলাওয়ার হোসেন বলেন, একজন বোন জানান—আমি দীর্ঘ দেড় বছর ধরে আমার কষ্টগুলো বুকে পাথর চাপা দিয়ে রেখেছি। আমি কাউকে বলতে পারিনি, কাঁদতেও পারিনি, কোনো অভিযোগও দিতে পারিনি। কারণ ৫ আগস্ট রাতে আমার বাসা থেকে বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের কর্মীরা জোর করে আমার অনেক যত্নে পোষা দুটি গাভি নিয়ে যায়। আমার পোষা খাসি ছাগলটিও জোরপূর্বক নিয়ে যায়। এমনকি আমার ফ্রিজ খুলে নিয়ে যায়, বাসার আসবাবপত্র নিয়ে যায় এবং আমার মেয়ের জন্য সযত্নে রাখা গহনাগুলো লুটপাট করে। তখন আমি কাঁদতে পারিনি, কথা বলতে পারিনি। আমি নীরবে শুধু সাক্ষী হয়ে ছিলাম।

একজন ব্যবসায়ীর উদ্ধৃতি দিয়ে দেলাওয়ার বলেন, একজন ব্যবসায়ী জানান—ভাই, আমি কখনো রাজনীতি করিনি, শুধু একটি দলকে ভোট দিতাম। এরই অপরাধে মুহূর্তের মধ্যে আমার দোকানের লক্ষ লক্ষ টাকার মালামাল লুটপাট করে নিয়ে গেছে।

দেলাওয়ার হোসেন বলেন, চাঁদাবাজির শিকার শুধু বিরোধী দলের কর্মীরাই নয়, নিজের দলের কর্মীরাও হয়েছে। এই দেড় বছরে মানুষ একটাই চায়—তারা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে এবং এসব থেকে মুক্তি চায়। তারা পরিবর্তন চায় এবং দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে মানুষ এখন স্বপ্ন দেখছে। এর কারণেই তারা বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছে, হুঁশ হারাচ্ছে। যেখানে যায়, সেখানেই দাঁড়িপাল্লা দেখতে পায়। যে পাড়ায় ঢোকে, সেখানেই দাঁড়িপাল্লার আওয়াজ শোনে। এ কারণে গত দেড় মাস ধরে শুধু হুমকি-ধামকি চলছে। ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে, লিফলেট ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে, সমাবেশে আসতে মানুষকে বাধা দেওয়া হচ্ছে। নানা ধরনের ষড়যন্ত্র করে আমাদের বিজয় ঠেকানোর চেষ্টা চলছে।

তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর যারা চাঁদাবাজি, লুটপাট, ভূমি দখল ও দোকানপাট পুড়িয়ে দিয়েছে, তাদের লুটপাট করা সব মালামাল ফেরত নেওয়া হবে। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাদের সব ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে বিপুল ভোটে এই আসনে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থীকে বিজয়ী করবেন, ইনশাল্লাহ।

১১ দলের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন বলেন, দেশের সাড়ে চার কোটি তরুণ-যুবক, যারা জীবনের প্রথম ভোট দেবেন, যারা রক্ত দিয়ে ও জীবন দিয়ে নতুন বাংলাদেশ এনে দিয়েছেন, যারা ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্রশিবিরের বিজয় নিশ্চিত করেছেন—তারা এবার অপেক্ষায় আছেন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মতো সারাদেশে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থীকে ভোট দিয়ে ভূমিধস বিজয়ের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামিকে রাষ্ট্রক্ষমতায় পাঠাবেন।

তিনি বলেন, রিকশাচালক বলছে দাড়িপাল্লা, ভ্যানচালকও বলছে দাড়িপাল্লা। কৃষক ও ব্যবসায়ীসহ সবাই বলছে দাড়িপাল্লা। সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মুখে এখন একটাই কথা—দাঁড়িপাল্লা আর দাঁড়িপাল্লা।

প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন বিগত সময়ে তাকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের নামে প্লাস দিয়ে নখ উপড়ে ফেলার লোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, আমি দীর্ঘ দুই বছর হাঁটাচলা করতে পারিনি। সে সময় আমি অনেক নির্যাতন সহ্য করেছি, তবে নির্বাচিত হলে কারও ওপর প্রতিশোধ নেব না।

তিনি আরও বলেন, সংসদ সদস্যদের সরকারিভাবে ফ্ল্যাট ও ট্যাক্সবিহীন গাড়ি কেনার সুযোগ দেওয়া হয়। আমি এমপি নির্বাচিত হলে সরকারি গাড়ি বা ফ্ল্যাটের কোনো সুযোগ-সুবিধা নেব না। আমি মানুষের শাসক নয়, সেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করব।

সব অপরাধের বিচার করা হবে এবং মিথ্যা মামলাগুলো প্রত্যাহার করা হবে। সভার শুরুতে তিনি ঠাকুরগাঁও-১ আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি, সাবেক পানিসম্পদমন্ত্রী ও প্রেসিডিয়াম সদস্য রমেশ চন্দ্র সেনের মৃত্যুর ঘটনায় শোক প্রকাশ করেন।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!