ব্লাক ডায়মন্ড বা কালো সোনাখ্যাত পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন করে ঠাকুরগাঁও জেলার একটি উপজেলার কৃষকদের সফলতার গল্প ছড়িয়ে পড়ায় বেড়েছে চাষাবাদ।
বিগত পেঁয়াজ চাষিরা আর্থিকভাবে সাবলম্বী হওয়ায় পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনে ব্যাপক সাড়া পড়েছে তাদের মধ্যে। পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন ও চাষাবাদ এখন জেলার প্রধান ফসলে পরিণত হয়েছে। উৎপাদিত এসব বীজের বাজার মূল্য ৩শ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে দাবি কৃষি বিভাগের।
২০১২ সালের দিকে ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার চাড়োল ইউনিয়নে ছোট পরিসরে পেঁয়াজ বীজের উৎপাদনের চাষাবাদ শুরু হয়। ওই গ্রামের কৃষক হায়দার আলীসহ কয়েকজন চাষি সীমিত আকারে পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন শুরু করেন। প্রথম দিকে পেঁয়াজ বীজ বিক্রি করে ঈর্ষণীয় সফলতা অর্জন করায় এলাকার অন্যান্য কৃষকের আগ্রহ বাড়তে থাকে। যারাই পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনে এগিয়ে এসেছে তাদেরই হাতে ধরা দিয়েছে সফলতা।
উপজেলার পেঁয়াজ বীজের চাষাবাদ এবার ছড়িয়ে পড়েছে সারা জেলায়। যাদের নিজের জমি নেই, তারাও অন্যের জমি বর্গা নিয়ে পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনের জন্য চাষাবাদ করে আসছেন।
বর্তমানে ঠাকুরগাঁও জেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে শোভা যাচ্ছে পেঁয়াজের ফুল। অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের কারণে মৌমাছিসহ উপকারী পোকা কমে যাওয়ায় পেঁয়াজ খেতে স্বাভাবিক পরাগায়ন ব্যাহত হওয়ায় প্রতিদিন সকাল হলেই কৃষাণ-কৃষাণীরা দলবেঁধে পেঁয়াজ খেতে নেমে পড়েন। নিবিড় হাতের ছোঁয়ায় কৃত্রিম পরাগায়নের কাজ করে যাচ্ছেন তারা।
প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একদল নারী-পুরুষ এবং কিশোর-কিশোরী হাতের ছোঁয়া দিয়ে ফুলে ফুলে কৃত্রিম পরাগায়নে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ফুল আসার পর টানা ৩০ দিন পর্যন্ত কৃত্রিম পরাগায়নের কাজ চলে। গ্রাম্য নারীদের একটি বড় অংশের কর্মসংস্থান হয়েছে এই পেঁয়াজ খেতে।
এদিকে উৎপাদিত পেঁয়াজ বীজ বাজারজাতকরণের জন্য ইতোমধ্যে লাল তীরসহ কমপক্ষে ১০টি কোম্পানি এ এলাকার চাষিদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। তারাই কৃষকদের কাছে ১৬০ টাকা কেজি দরে বীজের পেঁয়াজ বা বাল্ব সরবরাহ করেন। তারাই মাড়াই শেষে পেঁয়াজ বীজ ১৫শ থেকে ২ হাজার টাকায় কিনে নিয়ে যান।
পেঁয়াজ চাষিরা জানান, এক বিঘা জমিতে পেঁয়াজ বীজের পরিচর্যাসহ অন্যান্য খরচ মিলে বীজ উৎপাদন ব্যয় হয় ১ লাখ টাকা। দুর্যোগ না হলে প্রতি বিঘায় ১৮০ থেকে ২০০ কেজি পেঁয়াজের বীজ পাওয়া যায়। প্রতি কেজি ১৫শ টাকা হারে এক বিঘা জমিতে পেঁয়াজ বীজ বিক্রি হবে ৩ লাখ টাকা। খরচ বাদ দিয়ে প্রতি বিঘায় লাভবান হওয়া যায় ২ লাখ টাকা। আর অন্য কোনো ফসলে এত লাভবান হওয়া যায় না।
কৃষি বিভাগের উপপরিচালক মো. মাজেদুল ইসলাম জানান, চলতি বছর ঠাকুরগাঁও জেলায় ১ হাজার ১২৫ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ বীজের চাষাবাদ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে ১ হাজার ১০০ কেজি হিসাবে মোট ১ হাজার ২৩৭.৫ টন বীজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ। আর বীজ বিক্রি করে ৩০০ কোটি টাকা আয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যা জাতীয় অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখবে।



