জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের (আইআরডি) সচিব মো. আব্দুর রহমান খান চলতি অর্থবছরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি ব্যবসায়িক প্রক্রিয়াকে সহজ করার ওপর জোর দিয়েছেন।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই মাসে কাস্টমস, ভ্যাট ও আয়কর বিভাগের রাজস্ব আহরণের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় তিনি বলেন, ‘কোনো আমদানিকারক বা রপ্তানিকারক যেন অযথা বিআইএন লকজনিত হয়রানির শিকার না হন। সৎ ও নিয়ম মেনে চলা ব্যবসায়ীদের ক্ষতিগ্রস্ত করা হবে না।’
চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘নীতিমালা মেনে চলা ব্যবসার জন্য অপ্রয়োজনীয় জটিলতা এড়িয়ে সহজ কার্যক্রম নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। বাণিজ্য সহজ করার পাশাপাশি বিদ্যমান আইন যথাযথভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করাই এনবিআরের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।’
তিনি সব কাস্টম হাউস ও গোয়েন্দা অফিসকে নির্দেশ দিয়েছেন, সন্দেহজনকভাবে কোনো বিআইএন লক করার পরিবর্তে আগের রেকর্ড অনুযায়ী রাজস্ব ঝুঁকি বিবেচনায় ব্যবস্থা নিতে হবে।
তিনি বলেন ‘যারা নিয়ম মেনে ভ্যাট দিচ্ছেন, তাদের ওপর কোনো চাপ সৃষ্টি করা যাবে না। কিন্তু যারা একেবারেই ভ্যাট দেন না, তাদের ভ্যাট নেটের আওতায় আনা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।’
চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান বন্ড সুবিধা ও কাস্টমস কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে নির্দেশ দেন। বাজারে বন্ড সুবিধায় আনা পণ্য বিক্রি হলে সংশ্লিষ্ট আমদানিকারকের লাইসেন্স বাতিল করতে হবে। পাশাপাশি কোনো রাজস্ব কর্মকর্তার সামান্যতম অসৎ সম্পৃক্ততাও আইন অনুযায়ী কঠোরভাবে দণ্ডনীয় হবে।
রাজস্ব পর্যালোচনা সভায় তিনি কমিশনারদের কাছে বন্ড সুবিধার অপব্যবহার প্রতিরোধে নেওয়া পদক্ষেপের বিস্তারিত জানতে চান। বন্ড অডিট ফলাফল প্রতি মাসের রাজস্ব বৈঠকে উপস্থাপনের নির্দেশ দেন। শুল্কগুদামে নিলাম কার্যক্রম জোরদার করে বন্দরে দীর্ঘদিনে পড়ে থাকা কনটেইনার দ্রুত বিক্রির নির্দেশও দেন।
এনবিআর চেয়ারম্যান প্রতিটি কমিশনারেটকে নির্দেশ দিয়েছেন, ‘করদাতাদের ই-রিটার্ন দাখিলে সহায়তার জন্য পর্যাপ্ত জনবল নিযুক্ত করতে। ই-টিআইএন ও ই-টিডিএস সিস্টেমের মধ্যে দ্রুত সংযোগ স্থাপন করে করদাতার তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে হালনাগাদ করার নির্দেশও দেওয়া হয়।’
এছাড়া সব অডিট মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি, ট্যাক্স দাবি তৈরি ও কর সংগ্রহের জন্য সর্বাধিক কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়। ব্যক্তিগত ও কর্পোরেট করদাতাদের অডিট প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ করার জন্য স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘যেসব করদাতা টিআইএন থাকলেও রিটার্ন দাখিল করেন না, তাদের নোটিশ পাঠাতে হবে। তাদের আয়, ব্যয় ও সম্পদ তদন্ত করে আইন অনুযায়ী কর নির্ধারণ করতে হবে। এই তথ্য প্রতি মাসে রাজস্ব বৈঠকে উপস্থাপন করতে হবে।’
সভায় উপস্থিত ছিলেন কাস্টমস, ভ্যাট ও আয়কর বিভাগের সব কমিশনার এবং এনবিআরের সকল সদস্য। তারা রাজস্ব আদায় বাড়িয়ে কর-জিডিপি অনুপাত উন্নয়নের জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।