চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস ১৬৮ কন্টেইনার পণ্য ই-অকশন পদ্ধতিতে নিলামে বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের কর্ম উপযোগিতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিদ্যমান কন্টেইনার জট নিরসন, ভৌত ও আর্থিক নিরাপত্তাসহ জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
একইসঙ্গে রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রোধে কাস্টমস হাউসের অখালাসকৃত ও নিলামযোগ্য বিভিন্ন পণ্য নিষ্পত্তির লক্ষ্যে নিয়মিতভাবে নিলাম আয়োজন করে চট্টগ্রাম কাস্টমস। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি জুলাইয়ে নিলামযোগ্য ১৬৮ কন্টেইনার পণ্য নিলামে বিক্রি করা হবে।
এদিকে, বন্দর থেকে উধাও হওয়া ২৯৩টি কনটেইনারের হদিস মিলেছে। প্রায় ছয় মাস পর গত সোমবার চিঠির জবাবে জানিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক জারিকৃত নিলামের স্থায়ী আদেশ নং-৯১/কাস্টমস/২০২৫/১২৩ ও বিশেষ আদেশ নং-৮২/২০২৫/কাস্টমস অনুসারে বিশেষ ই-অকশন নং-০৮/২০২৬ এ ৭৬ লটে ৯৩ কন্টেইনার পণ্য নিলামে বিক্রি করা হবে। যার মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল, বিটুমিন, যন্ত্রপাতি-যন্ত্রাংশ, প্লাস্টিক সিট, চেস্ট ফ্রিজার, পাইপ, বিভিন্ন ধরনের কাপড়, কাগজ, ও গৃহস্থালি পণ্য রয়েছে। এ সকল পণ্য চালানের নিলামে কোন সংরক্ষিত মূল্য থাকছে না।
অপরদিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক জারিকৃত স্থায়ী আদেশ নং-৯১/কাস্টমস/২০২৫/১২৩ অনুসারে ই-অকশন নং-০৭/২০২৬ এ ৫৫ লটে মোট ৭৫ কন্টেইনার পণ্য নিলামে বিক্রি করা হবে। এসব পণ্যের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের ক্যাপিটাল মেশিনারিজ, বিভিন্ন ধরনের ফেব্রিক্স, পিভিসি ফ্লেক্স ব্যানার, ব্যাডমিন্টন র্যাকেট, এলিভেটর, এয়ার ফিল্টার, ক্রাফট লাইনার পেপার ও লবণসহ অন্যান্য পণ্য।
নিলাম কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে সম্পূর্ণ ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় এই নিলাম কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
নিলাম কার্যক্রম অধিকতর প্রতিযোগিতামূলক করতে ই-অকশন নং-০৭/২০২৬ এর পণ্য ১৩ থেকে ২০ জুলাই এবং বিশেষ ই-অকশন নং-০৮/২০২৬ এর পণ্য ১৬ থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত অফিস চলাকালে বিডারদের জন্য সরেজমিনে পরিদর্শন করে অনলাইনে বিড করার ব্যবস্থা রয়েছে।
আগ্রহী ক্রেতারা ঘরে বসেই কাস্টমসের অফিসিয়াল ই-অকশন পোর্টালে http://auction.bdcustoms.gov.bd নিবন্ধন করে ই-অকশন নং-০৭/২০২৬ এর দরপত্র ১২ জুলাই থেকে ২২ জুলাই বিকেল ৩টা পর্যন্ত এবং বিশেষ ই-অকশন নং-০৮/২০২৬ এর দরপত্র ১৪ থেকে ২৬ জুলাই বিকেল ৩টা পর্যন্ত অনলাইনে দাখিল করতে পারবেন।
চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস জানায়, অনলাইন বিডিংয়ের সময় প্রস্তাবিত দরমূল্যের ন্যূনতম ১০ শতাংশ জামানতের স্ক্যান কপি আপলোড করতে হবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট মূল কাগজপত্র দাখিল করতে হবে। সর্বোচ্চ দরদাতাদের আমদানি নীতি আদেশ ২০২১-২০২৪ এর প্রযোজ্য শর্ত পরিপালন সাপেক্ষে পণ্যসমূহ খালাস গ্রহণ করতে হবে।
আগামী ২২ জুলাই দুপুর সাড়ে ৩টায় ই-অকশন নং-৭/২০২৬ এর দরপত্র বাক্স উন্মুক্ত করা হবে এবং আগামী ২৭ জুলাই বেলা ১১টায় বিশেষ ই-অকশন নং-৮/২০২৬ এর দরপত্র বাক্স উন্মুক্ত করা হবে। নিলাম সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্যের জন্য বিডারদেকে ই-অকশন http://auction.bdcustoms.gov.bd পোর্টাল পরিদর্শনের জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জাতীয় সম্পদের কার্যকর ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তিনির্ভর এ নিলাম কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড আশা প্রকাশ করছে।

